শেরপুরে শশা বিপ্লব, বদলে গেছে কৃষকের দিন

Print This Post Email This Post

শস্য উদ্বৃত্ত অঞ্চল শেরপুর জেলায় চাষিদের কাছে শসার আবাদ এখন খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক চাষি বোরো ধানের চাষ বাদ দিয়ে শসার আবাদ শুরু করেছেন। তাদের মতে, বোরো ধানের চাষ থেকে শসার আবাদ অধিক লাভজনক। শেরপুর থেকে এখন প্রতিদিন ৫০ ট্রাকের বেশি শসা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। শসা বিক্রির টাকা পেয়ে শেরপুরের চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলার চরাঞ্চল, নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এখন শসার আবাদ হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় অনেক অনাবাদি এবং পতিত জমিতেও চাষিরা এখন শসার আবাদ করছে। এসব এলাকায় আবাদ করতে তাদের কাঠাপ্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়। কাঠাপ্রতি উৎপাদিত শসা তারা বিক্রি করছেন ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার। বছরে তারা একই জমিতে শীতকালীন ও বর্ষাকালীন দুবার শসার আবাদ এবং মধ্যবর্তী সময়ে ধানের চাষ করেন। ফলে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরাও এখন অধিক পরিমাণে শসাসহ সবজি আবাদে ঝুঁকে পড়েছে। এসব আবাদে খরচ কম, লাভ বেশি। এসব চাষাবাদে পরিবারের মহিলা সদস্যরা শ্রম দিয়ে পুরুষদের সহযোগিতা করছে। ফলে মেয়েদেরও কাজ-কর্মের সুযোগ হয়েছে।

শেরপুর সদরের কুসুমহাটি এলাকার চাষি আবুল কাশেম এবার ৩ কাঠা জমিতে শসার আবাদ করেছেন। এতে তারা উৎপাদন ব্যয় হয়েছে ৯ হাজার টাকা। ইতোমধ্যেই তিনি ১০ হাজার টাকার শসা বিক্রি করেছেন। এরপরও ৮-৯ হাজার টাকার শসা বিক্রি করতে পারবেন। অথচ এ জমিতে বোরো ধানের আবাদ করলে খরচসহ খুব বেশি হলে ৩ হাজার টাকার ধান উৎপাদন হতো।

স্থানীয় পাইকারি সবজিবিক্রেতা ফজলুল হক জানিয়েছেন, প্রতিদিন তারা শেরপুর থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫০ ট্রাক শুধু শসা রপ্তানি করে থাকেন। জেলার টেংরাখালি, বালুঘাটা, হলদিবাটা, ঝিনাইগাতী, লংগরপাড়া, গরজরিপা, মাটিয়াকুড়া, বলায়েরচর ও আসামপাড়াসহ বিভিন্ন বাজার থেকে বর্তমানে ৪শ’ টাকা মণ দরে শসা কিনে ঢাকায় ৬শ’ থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি করছেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেরপুরের শসার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বানেজ আলী মিয়া বলেন, শসা এ জেলার কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক সবজি। তাই এখানকার কৃষকরা অন্যান্য সবজির পাশাপাশি শসা চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে পড়ছে। এছাড়া এখানকার মাটি ও পরিবেশ শসা চাষে উপযোগী।

পাঠকের মন্তব্য

বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:

কীবোর্ড Bijoy      UniJoy      Phonetic      English
নাম: *
ই-মেইল: *
মন্তব্য: