তেলেসমাতি চলছে জন্ম তারিখ নিয়ে। প্রকৃতিগতভাবে একজন মানুষ মাত্র একবারই জন্ম নেওয়ার সুযোগ পেলেও জন্মতারিখ পরিবর্তনের নীতিহীন মানসিকতা অনেকটা স্বেচ্ছাচারী আচরণেরই নজির গড়ছে বটে।
ইদানিং অধিকাংশ তরুণই জন্ম নিচ্ছে দু’বার। চাকরির বাজারে নিজেকে আরো কিছুটা কমবয়সী হিসেবে জাহির করতে সার্টিফিকেটে অন্য জন্মতারিখ বসাচ্ছে।
আবার দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য রাজনীতিতেও ঘটছে জন্মতারিখ পরিবর্তনের ঘটনা।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে জন্মতারিখ নিয়ে সবচে আলোচিত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন খালেদা জিয়া। প্রকৃত জন্মতারিখ পালটিয়ে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদিবসেও জন্মদিন পালন করেছেন তিনি।
অনেকটাই যেন গা সওয়া হয়ে গেছে এসব ব্যাপার। কিন্তু জাতির সুর্য সন্তানদের জন্ম তারিখ নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো পরস্পরবিরোধী তথ্য দিতে থাকলে লজ্জায় মুখ লুকানোর জায়গা কোথাও কি পাওয়া যায়?
সাত বীরশ্রেষ্ঠের জন্ম তারিখ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমী, বাংলাপিডিয়া, জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, জেলা ওয়েব পোর্টালে পরস্পরবিরোধী তথ্য আছে।
বিভ্রান্তি আছে বীরশ্রেষ্ঠদের নিজ নিজ বাহিনীর তথ্য অফিস থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই পুস্তক ও জীবনীতেও।
আমাদের সাত বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে তিনজন সেনাবাহিনীর, দু’জন বিজিবি (ইপিআর) ও একজন করে বিমান ও নৌ বাহিনীর।
বাংলাপিডিয়া, বাংলা একাডেমী ও শিশু বিশ্বকোষ বলছে সেনাবাহিনীর ক্যান্টেন মহিউদ্দিনের জন্ম ১৯৪৮ সালে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বলছে ১৯৪৯ সালের ৭ মার্চ জন্ম তার।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও শিশু বিশ্বকোষ বলছে সিপাহী হামিদুরের জন্ম তারিখ ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু জেলা প্রশাসক ওয়েব সাইটে জন্ম তারিখ নয়, কেবল ১৯৫৩ সালের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ওয়েব সাইট ও শিশু বিশ্বকোষ বলছে- সেনাবাহিনীর অপর সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের জন্ম ১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ও মৃত্যু ১৭ এপ্রিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বলছে- তার জন্ম ১৯৪৯ সালে ও মৃত্যু ১৮ এপ্রিল তারিখে। আবার বাংলাপিডিয়াতে কেবল ১৯৪৭ সালকেই জন্মতারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইপিআরের ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফের জন্ম তারিখ নিয়েও সমস্যা আছে। বাংলাপিডিয়া, বাংলা একাডেমী ও শিশু বিশ্বকোষে তার জন্ম ১৯৪৩ সালের মে মাসে বলেই দায় সারা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসক ওয়েব সাইট ১ মে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ও বিডিআর ক্রোড়পত্রে ৮ মে তারিখকে তার জন্ম তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তার মৃত্যু তারিখ কোথাও ৭ এপ্রিল, কোথাও ৮ এপ্রিল, আবার কোথাও ২০ এপ্রিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধিকাংশ প্রকাশনায় বিমান বাহিনীর মতিউর রহমানের জন্ম ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর বলা হলেও শিশু বিশ্বকোষ বলছে তার জন্ম ১৯৪২ সালে।
আবার নৌ বাহিনীর মোহাম্মদ রুহুল আমিনের জন্ম আর মৃত্যু তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি আছে। অধিকাংশ সূত্রে ১০ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও বাংলাপিডিয়া বলছে ৬ ডিসেম্বর মৃত্যু হয়েছে তার। বাংলাপিডিয়া, বাংলা একাডেমি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বলছে- ১৯৩৫ সালে জন্ম নিয়েছেন তিনি। আর জেলা প্রশাসক ওয়েব সাইট বলছে-তার জন্ম ১৯৩৪ সালে।
এখন বিষয়টি হচ্ছে আমরা কি আমাদের জাতির সূর্য সন্তানদের জন্ম-মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পড়তেই থাকবো? আমাদের ভবিষৎ প্রজন্ম কি সব সময় এই ভুল তথ্যই জানবে-পড়বে-শিখবে? প্রতি বছরই পাঠ্যপুস্তকের ভুল সংশোধন করা হয়। কিন্তু এসব ভুল ও বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি মিলবে কবে?
বীরশ্রেষ্ঠদের জন্ম-মৃত্যুর তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি
পাঠকের মন্তব্য




Posted on Aug 12, 2011
Wait, I cannot fahtom it being so straightforward.