নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১-ওয়ালিউর রহমান

Print This Post Email This Post

দেশের জনসমষ্টির অর্ধেকই হলো নারী৷ তাই জাতীয় উন্নয়নের পূর্বশত হলো নারী উন্নয়ন৷  নারী যুগযুগ ধরে শোষিত ও অবহেলিত হয়ে আসছে৷ পুরম্নষ, কুসংষ্কার, নিপীড়ন ও বৈষম্যের বেড়াজালে তাকে সবদর্া রাখা হয়েছে অবদমিত৷ গৃহস্থালীর কাজে ব্যয়িত নারীর মেধা ও শ্রমকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি৷ নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া আহবান জানিয়ে বলেছিলেন-তোমাদের কন্যাগুলিকে শিক্ষা দিয়া ছাড়িয়া দাও , তারা নিজেরাই নিজেদের অন্নের সংস্থান করম্নক৷ তার এ আহবানে  নারীর অধিকার অর্জনের পন্থা সম্পকে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে৷ জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য সকল ক্ষেত্রে নারীর সমানাধিকার ও সমসুযোগ প্রতিষ্ঠা করা একানত্ম অপরিহার্য৷ আনত্মজর্াতিক ক্ষেত্রে সত্তর দশকের প্রথমভাগ থেকেই বঙ্গবন্ধু নারী উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে৷১৯৭৫ সালে মেক্সেকোতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্ব নারী সম্মেলনে বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং তারই ফলশ্রুতিতে দেশের বাইরে নারী উন্নয়নের যে আন্দোলন চলছিল তার মূলধারায় বাংলাদেশ যুক্ত হয়৷ ১৯৯৫ সালে বেইজিংয়ে চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলন বেইজিং ঘোষণা ও  কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হয়৷ সকল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ৷ শেখ হাসিনার প্রথম সরকারের আমলে ১৯৯৭ সালে যুগোপযোগী একটি নারীনীতি ঘোষণা করা হয়েছিল,যা চারদলীয় জোট এসে বাতিল করে দেয়৷২০০৮ সালে তত্ত্ববধায়ক সরকার একটা নারী উন্নয়ন নীতি ঘোষণা করেছিল,তবে তা বাসত্মবায়ন হয়নি৷  সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,নারী,পুরুষ,ধর্ম কিংবা স্থানিক কারণে কোনো নাগরিকের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না৷ তার ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে ২০১১’নারী উন্নয়ন নীতি৷ প্রসত্মাবিত নারীনীতিতে সর্বমোট ৪৯টি ধারা আছে,যার মধ্যে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ,নারী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ,কন্যাশিশুর উন্নয়ন,নারীর কর্মসংস্থান,নারীর খাদের নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় অন্তভুর্ক্ত৷ স্বামী ঘরে গেলে স্ত্রীর সস্পত্তি যেন স্বামীরই হক হয়ে দাড়ায়৷আবার,বাবার বাড়ির সম্পদও যেটুকু নারী শরিয়ত অনুযায়ী মালিক হওয়ার কথা সেকুটুও যেন করুণার বিষয় হয়ে দাড়ায়৷কখনো ভাইদের চাপে পড়তে হয় তাকে৷ কখনোও আবার আবদারও চলে বোনের প্রতি৷আর স্বামীর ঘরে গিয়ে তো স্ত্রী নিজেই স্বামীর ব্যবহার্য পণ্য হয়ে যায়৷সম্পদের তো প্রশ্নই আসে না৷নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ এর ২৫(২)অনুচ্ছেদে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন শিরোনামে স্পষ্ট বলা হয়েছে,উপাজন,উত্তরাধিকার,ভূমি এবং বাজারব্যবস্থাপনায় মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের ক্ষেত্রে নারীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রদান করা৷ এখানে উত্তরাধিকার হিসেবে নারী যে সম্পদ অর্জন করবে,তার উপর নারীর পূর্ণ অধিকারের কথা বলা হয়েছে,উত্তরাধিকার হিসেবে তাকে পুরুষের সমান ভাগ দিতে হবে, তা এখানে উল্লেখ নেই৷প্রকৃতপক্ষে,নারী তার অর্জিত সম্পত্তির উপর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা পায় না৷আমাদের দেশের কিছু মানুষ নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ কে ইসলাম বিরোধী মনে করছে৷কারণ একটি তারা নারীকে পদানত রাখতে চায়৷নারীকে সেবাদাসী হিসেবে দেখার জন্য তাদের এই আন্দোলন৷নারী উন্নয়ন নীতিকে তারা কেন কোরআন ও সুন্নাহর বিরোধী হিসেবে ব্যাখ্যা দিচ্ছে তার কোন সুস্পষ্ট কারণ তারা দেখাতে পারেনি৷ শরিয়ত মোতাবেক নারীর উত্তরাধিকার স্বত্ত্বে যে সম্পদ পাওয়া কথা তারই প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে বর্তমান নারী নীতিমালায়৷
২০১১ নারী উন্নয়ন নীতিমালাকে অস্বীকার করা আর সংবিধানকে অবমাননা করা একই কথা৷ আর সেই আঙ্গিকে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করা যায়৷পশ্চাত্‍গামী,ধমার্ন্ধ কিছু মানুষ ধর্মকে ব্যবহার করে ২০১১ নারী উন্নয়ন নীতিমালাকে ধর্মবিরোধী বলে দেশে অরাজকতার সৃষ্টি করছে৷ কোরআন বুকে বেধে ইসলাম এবং কাফনের কাপড় গায়ে চড়িয়ে,কোরআনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আল্লাহর পবিত্র কিতাবকে অপবিত্র করা ছাড়া আর কিছুই না৷আমি পৃথিবীর বহু মুসলিম দেশ ঘুরেছি কিন্তু রাজনৈতিক কোন ইসু্ বাসত্মবায়নে কোরআন নিয়ে রাস্তায় নামার ঘটনা নজিরবিহীন এবং নিন্দনীয় ঘটনা ছাড়া আর কিছুই না৷

পাঠকের মন্তব্য
  1. Gracelin
    Posted on Aug 13, 2011

    Your story was really informative, tahnks!

বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:

কীবোর্ড Bijoy      UniJoy      Phonetic      English
নাম: *
ই-মেইল: *
মন্তব্য: