সাড়ে ১৩ হাজার হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার নিয়োগ অনিশ্চিত

Print This Post Email This Post

সারাদেশে ওয়ার্ড পর্যায়ে সাড়ে ১৩ হাজার কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) পদে জনবল নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ধীরে চলো নীতি এবং সংরক্ষিত কোটায় নিয়োগ প্রদানে মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই-বাছাইয়ে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গড়িমসির কারণে নিয়োগ কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারাদেশে ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রতি ছয় হাজার লোকের জন্য একটি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করার পদক্ষেপ নেয়। সরকারের দাবি অনুযায়ী এ পর্যন্ত আঠারো হাজার ক্লিনিকের মধ্যে দশ হাজারের বেশি চালু করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু যথেষ্ট জনবল সঙ্কটের কারণে এসব ক্লিনিক থেকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে গত বছরের মে থেকে কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। কিন্তু এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো হেলথ প্রোভাইডারের চূড়ান্ত নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি বিভিন্ন জটিলতার কারণে কবে নাগাদ এ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হবে তা নিয়েও অনিশ্চতা দেখা দিয়েছে। ফলে কমিউনিটি ক্লিনিকের জনবল সঙ্কট শিগগির কাটিয়ে উঠতে পারছে না সরকার।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের সম্ভাব্য সময় অনুযায়ী চলতি মাসের মধ্যে তিন পার্বত্য জেলা (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) ব্যতীত সারা দেশে সিএইচসিপি পদে নিয়োগ চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে প্রকল্পের আওতায় হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের মে-জুন মাসের বেতন ধরা হয়েছে। নিয়োগ কার্যক্রমে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের ধীর গতি এবং সিদ্ধান্ত প্রদানে বিলম্বের কারণে এমনটি ঘটছে। অন্যদিকে এ মাসের মাঝামাঝিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, উপদেষ্টাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় গেছেন। তারা ফিরে না আসা পর্যন্ত এ বিষয়টি চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে না। তাছাড়া আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেয়া বেশ কয়েকটি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাই মুক্তিযোদ্ধা কোটায় লোক নিয়োগের জন্য প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সনদ চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে বিলম্বের কারণে শিগগির অনুমোদন পাওয়া সম্ভব হবে না। আর এজন্য সঠিক সময়ের মধ্যে নিয়োগ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
এদিকে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের বর্তমান পরিচালক ড. মাখদুমা নার্গিসের দু’বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ ২৭ মে শেষ হচ্ছে। ফলে তার সময়ের মধ্যে নিয়োগ কার্যক্রম চূড়ান্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক ড. মাখদুমা নার্গিস শনিবার শীর্ষ নিউজ ডটকমকে জানান, সিএইচসিপি নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ শেষ হয়েছে। এছাড়া তিন পার্বত্য (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) জেলায় লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। আগামী ২৫, ২৬ ও ২৭ মে এ জেলাগুলোর মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। তবে এ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত নিয়োগ শেষ করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগের জন্য মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। তাই যথা সময়ে নিয়োগ শেষ করা সম্ভব হবে না। তবে মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে নিয়োগ দেয়া হলে তা দ্রুত শেষ করা যেত। সেক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে কোনো কারণে অবৈধ প্রমাণিত হলে তখন ব্যবস্থা নেয়া যেত। এ ব্যাপারে ইতিপূর্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমতি চাওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। বেশ কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, হেলথ প্রোভাইডার নিয়োগের জন্য নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর জন্য বিভিন্ন মহল থেকে জোর তদবির চলছে। মন্ত্রী, এমপি, ডিসি, সিভিল সার্জন, এসপি, ক্ষমতাসীন দলের নেতা, বিএমএ, স্বাচিপসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের ব্যক্তিরা এ কাজে নেমেছেন। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি দেয়ার নাম করে কিছু অসাধু কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২ মে জেলা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে নিয়োগ কমিটি করা হয়। কমিটি একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর সিএইচসিপি পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করে। লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় এ বছরের ১৫ মার্চ। লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রায় ২ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে প্রতিটি পদের অনুকূলে তিনজন হারে মোট ৪০ হাজারেরও বেশি আবেদনকারী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। এদের মধ্যে মহিলা প্রার্থীর্দের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

পাঠকের মন্তব্য
  1. Kacy
    Posted on Oct 20, 2011

    Yo, good lokoin out! Gonna make it work now.

বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:

কীবোর্ড Bijoy      UniJoy      Phonetic      English
নাম: *
ই-মেইল: *
মন্তব্য: