কহে বীরাঙ্গনা দিয়ে শুরু ঢাকা আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসব

Print This Post Email This Post

পৌরাণিক নারীদের দুঃখগাথা নিয়ে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত লিখেছিলেন কাব্যগ্রন্থ ‘কহে বীরাঙ্গনা’। যে কাব্যে রয়েছে প্রিয়তমকে লেখা ১১ প্রেয়সীর পত্র। এই ১১টি পত্র থেকে চারটি কাব্যকে বাছাই করে নাট্যরূপ দিয়েছে মনিপুর থিয়েটার। পৌরাণিক কাহিনী হলেও এতে উঠে এসেছে ভারতবর্ষের নারীর সর্বকালীন বিরহ-বেদনা। একক নাটক ‘কহে বীরাঙ্গনা’ নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশিষ সিনহা।
কহে বীরাঙ্গনা মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে আজ শনিবার শুরু হয়েছে ‘প্রথম ঢাকা আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসব’। শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালায় ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) বাংলাদেশ কেন্দ্র আয়োজিত এই উৎসবের উদ্বোধন করেন আইটিআইয়ের বিশ্ব সভাপতি রামেন্দু মজুমদার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী ও গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ঝুনা চৌধুরী। আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্রের সভাপতি আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দীন ইউসুফ।
‘কহে বীরাঙ্গনা’ নাটকে মঞ্চস্থ হওয়া চারটি পত্রের মধ্যে প্রথমেই আসে দুষ্মন্তের প্রতি শকুন্তলার লেখা চিঠি। এই চিঠিতে রাজা দুষ্মন্তের প্রতি প্রতারিত শকুন্তলার হাহাকার ফুটে উঠেছে। দ্বিতীয় পত্র ‘অর্জুনের প্রতি দ্রৌপদী’। অস্ত্র চালনা শিক্ষার নামে প্রবাসে গিয়ে অর্জুন মেতে থাকেন ভোগবিলাসে। এই চিঠিতে উঠে এসেছে স্বামীর প্রতি বঞ্চিতা দ্রৌপদীর তীব্র ক্ষোভ। তৃতীয় চিঠি ‘জয়দ্রথের প্রতি দুঃশলা’। যুদ্ধে লিপ্ত স্বামীর মৃত্যুভয়ে ভীত দুঃশলা স্বামীকে যুদ্ধ থেকে ফেরাতে এই পত্র লেখেন। সর্বশেষ চিঠি ‘নীলধ্বজের প্রতি জনা’। স্বামী নীলধ্বজ পুত্রের খুনির সঙ্গে সন্ধি করলে এই পত্রে স্বামীর প্রতি ঘৃণা, ক্ষোভ ও আর্তনাদ প্রকাশ করেন পুত্রহারা জননী জনা। পৌরাণিক এই চারটি ভূমিকায় একাই অভিনয় করেন জ্যোতি সিনহা। দিনের অপর নাটক নাটক মঞ্চায়ন করে সিঙ্গাপুরের বার্ডস থিয়েটার। পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চায়িত এই নাটকের নাম ‘শেডস’।
আয়োজকরা জানান, সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় প্রদত্ত অনুদানের টাকায় এ উৎসব আয়োজন করা হচ্ছে। ৫টি বিদেশি দলসহ ২৪টি দলের নাটক নিয়ে দশ দিনের এ উৎসব আগামী ৩০ মে পর্যন্ত শিল্পকলার তিনটি হলে অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবে ভারত, নেপাল, সিঙ্গাপুর ও হংকং থেকে দল অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশের ১৯টি দলের মধ্যে ঢাকার বাইরের রয়েছে ৪টি দল। উৎসব আয়োজনের বাজেট হচ্ছে ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্রকে অনুদান দিয়েছে ৬০ লাখ টাকা।

পাঠকের মন্তব্য

বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:

কীবোর্ড Bijoy      UniJoy      Phonetic      English
নাম: *
ই-মেইল: *
মন্তব্য: