লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে মঙ্গলবার ন্যাটোর যুদ্ধবিমানগুলো ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এতে তিনজন নিহত ও ১৫০ জন আহত হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন সোমবার লন্ডনে বলেন, ‘গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হবে’। তার এই ঘোষণার পরই মঙ্গলবার ভোরে ত্রিপোলিতে প্রচ- বিমান হামলা চালায় ন্যাটো।
গত কয়েকদিনের মধ্যে ত্রিপোলিতে এটিই ন্যাটোর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। মঙ্গলবারের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় বারোটি প্রচন্ড-বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে লিবিয়ার রাজধানী।
লিবিয়া সরকারের মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিম জানান, হামলায় তিনজন নিহত ও ১৫০জন আহত হয়েছেন।
মুসা জানান, পপুলার গার্ডের (নিয়মিত বাহিনীর বাইরে উপজাতীয়দের নিয়ে তৈরি বাহিনী) একটি প্রাঙ্গণ লক্ষ করে হামলা চালানো হয়।
হামলার আশঙ্কায় ওই প্রাঙ্গণ থেকে লোকজন এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
হতাহতদের আশেপাশের এলাকার বেসামরিক বাসিন্দা বলে দাবি করেন তিনি।
“এটি ন্যাটোর বোমাবর্ষণ এবং হত্যাযজ্ঞের আরেকটি রাত”, সাংবাদিকদের বলেন মুসা ।
জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে দুই মাসেরও বেশী সময় ধরে লিবিয়ায় বিশেষায়িত স্থাপনা লক্ষ করে ন্যাটো বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এরআগে গৃহযুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের গাদ্দাফি অনুগত বাহিনীর হামলা থেকে রক্ষার জন্য জাতিসংঘ “প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ” নেওয়ার অনুমোদন দেয়।
সোমবার লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি সময় এখন গাদ্দাফির বিরুদ্ধে, পুরো দেশের ওপর তিনি আর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না।”
হিলারি বলেন, “গাদ্দাফিবিরোধীরা গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ আইনসঙ্গত একটি অন্তর্র্বতীকালীন কাউন্সিল গঠন করেছে। তাদের সামরিক সামর্থ্য বাড়ছে এবং গাদ্দাফি যখন ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন, তখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন এক লিবিয়া দাঁড়িয়ে যাবে।”
এসময় লিবিয়ায় ন্যাটোর সামরিক অভিযান নিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।



