জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১২তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কবির মাজারে পুষ্পস্বক অর্পণ করেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। এ সময় একাডেমীর সচিব, পরিচালক, উপপরিচালক, সহপরিচালকসহ একাডেমীর সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।বিকেলে একাডেমীর সেমিনার কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক শান্তনু কায়সার ও বিশিষ্ট আবৃত্তিকার অধ্যাপক কাজী মদিনা। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তি করেন কবি আসাদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নজরুল-গবেষক ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস-এর উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।
স্বাগত ভাষণে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে এ বছরটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। কাজী নজরুল ইসলাম ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মধ্যে দিয়ে বাংলা কবিতায় বিপরী রূপান্তর ঘটান। এ কবিতার ৯০তম বার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমী আগামী ডিসেম্বর মাসে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করবে।তিনি বলেন, নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার আঙ্গিক, শৈলি ও কাব্যভাষা তাঁকে স্বকীয়তা দান করেছে। তাই নজরুলকে তাঁর সমসাময়িক কবিগণ স্বীকৃতি দিতে না চাইলেও রবীন্দ্রনাথ কিন্তু তা যথার্থভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। নজর“লকে উৎসর্গিত রবীন্দ্রনাথের ‘বসন্ত’ নাটকই তার প্রমাণ। নজরুল বাংলা ও বাঙালির কথা গভীরভাবে ভেবেছিলেন। এর মূলে ছিল অসাম্প্রদায়িক বিজ্ঞানভিত্তিক মানবিক চেতনা।অধ্যাপক কাজী মদিনা বলেন, বিশ শতকের সূচনালগ্নে সংঘটিত ভারতের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পটভূমি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্মে গভীর ও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এজন্যই তাঁর সাহিত্যে জাতীয়তা ও সাম্যবাদ যুগপৎভাবে উপস্থিত। হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের কথা বললেও নজরুল নিজে ছিলেন সর্বহারা’র দলে। তিনি বলেন, নজরুল সবৃাগ্রে কৃষক-শ্রমিক-মজুর তথা সমাজের তৃণমূল শ্রেণির মুক্তির কথা বলেছেন। সবার উপরে মানুষ ও মানুষের মাঝেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রত্যক্ষ করেছেন কাজী নজরুল ইসলাম। তাই তো তিনি যুগস্রষ্টা কবি।অধ্যাপক শান্তানু কায়সার বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যে নবধারার সূচনা করেন। সাহিত্য সৃষ্টির সময় নজরুল ইসলাম প্রায়শ নিজের জীবনকে গৌণ বলে বিবেচনা করতেন। তাই তাঁর সাহিত্যে ধর্মানুষঙ্গ, পুরাণ, ইতিহাস ও কৃষ্টির নানাবিষয় লক্ষে করা যায়। তিনি বলেন, নজরুলের সাহিত্যে অসাপ্রদায়িকতা, মানবতা, সাম্রাজ্যবাদ তথা ঊপনিবেশবাদ থেকে মুক্তির কথা বলা হয়েছে বারংবার। তাই তো নজরুল মানবতার কবি।সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, নজরুলের জীবন ছিল বর্ণিল। কবি, গায়ক, সাংবাদিক ও সৈনিকরূপে জীবনের নানাপর্বে নজরুল ইসলাম বৈচিত্র্যপূর্ণ সাহিত্য রচনা করেছেন। তিনি বলেন, বিশ শতকের সাহিত্যে উলেখযোগ্য ২/৩টি কবিতার মধ্যে অন্যতম হলো কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা। এ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম মাত্রাবৃত্ত ছন্দে শতাধিকবার ‘আমি’ সর্বনামটি ব্যবহার করেছেন। এমনকি বাংলা সাহিত্যের রূপান্তরের বিষয়টি নজরুলের বিদ্রোহী কবিতায় লক্ষ্য করা যায়।সংগীতানুষ্ঠানে নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী সুজিত মোস্তফা, ফেরদৌস আরা, নাশিদ কামাল, লীনা তাপসী, শাহজাহান পাটোয়ারী, কিমিয়া জোয়ারদার প্রমুখ। যন্ত্রাণুষঙ্গে তবলায় ছিলেন দেবু চৌধুরী, বাঁশিতে গাজী আবদুল হাকিম, বেহালায় আবু কামাল এবং কী-বোর্ডে সুমন রেজা খান।
বাংলা একাডেমীর উদ্দোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুল ১১২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন
পাঠকের মন্তব্য



