যেখানে সন্মান নেই,সেখানে থেকে কি লাভ ? এরশাদ

Print This Post Email This Post

অবশেষে মহাজোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। শুধু তাই নয়, ছোট ছোট দলের সঙ্গে জোট বেঁধে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দাঁড় করানো চেষ্টা চলছে। এজন্য খোদ এরশাদসহ দলটির নীতি নির্ধারকরা বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু করেছেন। মন্ত্রিসভায়ও থাকছে না জাপার প্রতিনিধিত্ব।

দলটির সিনিয়র নেতারা বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, জুন মাসেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসছে জাপা। ওই বৈঠকে এরশাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হবে মহাজোট নেত্রীর কাছে। তিনি তা না মানলে মহাজোট থেকে বেরিয়ে যাবে এরশাদ ও তার দল।

দলীয় সূত্রমতে, মন্ত্রিসভায় জাপার একমাত্র প্রতিনিধি জিএম কাদেরকে এরই মধ্যে পদত্যাগের মানসিক প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জাপার এক সিনিয়র নেতা বাংলানিউজকে বলেন, ‘অনেক তো হলো। আমরা আর মহাজোটে ঝুলে থাকতে চাই না। প্রয়োজনে ছোট দলগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধে আগামী নির্বাচনে মাঠে নামবো। আগামীর রাজনীতিতে জাপা হবে তৃতীয় শক্তি।’

জাপা নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহাজোট নেত্রীর সঙ্গে আসন্ন আলোচনা সফল হবে না বলেই মনে করছেন জাপা নেতারা। তাই মহাজোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই মধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছেন বিভিন্ন দলের সঙ্গে। দলীয় প্রধান এরশাদ নিজেই যোগাযোগ চালাচ্ছেন আসম আব্দুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমীক জনতা লীগসহ পাঁচটি দলের সঙ্গে।

মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারসহ দলের আরো অন্তত ডজন খানেক নেতা বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবে দলকে আরো সুসংহত করতে ঢাকার বাইরে নিয়মিত দৌড়ঝাঁপ করছেন এরশাদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

দলীয় সূত্রমতে, গত বছরের শেষ নাগাদ বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসেন এরশাদ। কিন্তু ওই বৈঠক ফলপ্রসু না হওয়ায় মহাজোটে তার বঞ্চিত হওয়ার বোধ আরো প্রবল হয়। তাই চলতি বছরের শুরু থেকেই তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার চিন্তা শুরু করেন তিনি।

দলীয় সূত্র আরো জানায়, মহাজোটে থেকে এরশাদের রাষ্ট্রপতি হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হওয়ার ইচ্ছে ছিলো তার। কিন্তু এক সময় তার সেই আশার গুঁড়েও বালি পড়ে।

উপরন্তু সপ্তম সংশেধনী বাতিল করার পর আরো ব্যাকফুটে চলে যান তিনি। এমনকি সামরিক শাসক হিসেবে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের জন্য তার বিচারের হুমকি ও বিভিন্ন মামলা জিইয়ে রেখে তাকে কৌশলে মহাজোটে আটকে রাখা হয়েছে বলেই মনে করছেন জাপার সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে জাপা নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ করতেও দেখা গেছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক কিছু ইস্যুতে মহাজোট নেতা আওয়ামী লীগের ওপর এরশাদ তার ক্ষোভ যেমন প্রকাশ করছেন, তেমনি তীব্র বিরোধীতা করছেন কিছু সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের। বিশেষত নারীনীতি ও শিক্ষানীতি নিয়ে ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে সরকারকে সমঝোতারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কিন্তু মহাজোট নেতা আওয়ামী লীগ কোন পরামর্শই কানে না তোলায় শেষ পর্যন্ত এরশাদ মহাজোট ছেড়ে তৃতীয় শক্তি হিসেবেই আত্মপ্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন।

এ প্রসঙ্গে, দলটির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বাংলানিউজকে বলেন, ‘একটা লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছি। দেখি কতো দূর যেতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টিকে তৃতীয় শক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমরা কাজ করছি।’

‘জাতীয় পার্টি নতুন মেরুকরণের দিকে এগুচ্ছে’ বলে মন্তব্য করে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের সব দিক খোলা আছে। উত্তর- দক্ষিণ, ডান-বাম সবই আমাদের চেনা। সব পথই বিবেচনায় আছে। কোন পথে যেতে হবে সেটা সময়ই বলে দেবে।’

দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘জাতীয় পার্টিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করলে আগামী নির্বচনে এর সফলতা আসবে।’
তিনি বলেন, ‘দলকে সুসংগঠিত করতে পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদসহ সিনিয়র-জুনিয়র সবাই কাজ করছেন। আশা করি আমরা একটি লক্ষে পৌঁছতে পারবো।’

অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মাহমুদ হাসান বাংলা নিউজকে বলেন, ‘জাতীয় পার্টির নতুন পথ খোঁজা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। আমরা নতুন পথের সন্ধানে আছি।’

তিনি বলেন, ‘দলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জাতীয় পার্টি একটি ফ্রন্ট গঠন করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। দেশের বড় দুই দলের বাইরে যেসব দল রয়েছে তাদের নিয়ে জাতীয় পার্টি ফ্রন্ট গঠন করে তৃতীয় শক্তি হিসাবে দাঁড়ানোর জন্য কাজ করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের প্রবীন রাজনীতিবিদ আসম আব্দুর রব ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীসহ পাঁচটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।’

আগামী নির্বাচনে জাপা ক্ষমতায় গেলে জনস্বার্থে দেশকে ৮টি প্রদেশে ভাগ করবে বলেও জানান তিনি।

পাঠকের মন্তব্য

বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:

কীবোর্ড Bijoy      UniJoy      Phonetic      English
নাম: *
ই-মেইল: *
মন্তব্য: