পুঁজিবাজারে তফসিলি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বিধিবদ্ধ সীমার মধ্যে নামিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনও উদ্যোগ নেয়নি বলে এফবিসিসিআই যে অভিযোগ করেছিল তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার ‘সুদের হার, তারল্য ও পুঁজিবাজার পুনরুদ্ধার প্রসঙ্গ’ শীর্ষক বিভিন্ন মিডিয়াতে পাঠানো ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের এক পত্রে এ কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, সম্প্রতি এফবিসিসিআই’র এক প্রেস বুলেটিনে বলা হয়েছে যে, যখন শেয়ারের মূল্য ঊর্ধ্বমুখি ছিল তখন বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারে তফসিলী ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বিধিবদ্ধ সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে বাধ্য করার কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এটা সঠিক নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, অথচ এফবিসিসিআই’র উক্ত বুলেটিনেই বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে (যখন সূচক ৬০০০ এর চেয়েও কম ছিল) এ বিষয়ে একটি সতর্কতামূলক সার্কুলার জারি করে।
অবস্থানপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক আরো বলেছে, এটা কৌতূহলোদ্দীপক যে, এখন যারা বাংলাদেশ ব্যাংককে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ না করার জন্যে দায়ী করছেন, তারাই ওই সময় ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বিধিবদ্ধ সীমার মধ্যে নামিয়ে আনার সময়সীমা বাড়ানোর জন্যে জোরালো তদবির করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ২০১০ সালের নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণী অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থেকে ব্যাংকগুলোর মুনাফার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। এটা এফবিসিসিআই’র বুলেটিনে উল্লেখিত মুনাফার চেয়ে অনেক কম।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থানপত্রে বলা হয় যে, ২০১০ সালে পুঁজিবাজার থেকে ব্যাংকগুলোর মুনাফা লভ্যাংশ আকারে বিতরণ না করে তা আপদকালীন ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য জমা করে রাখলে ভালো হতো। তবে তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত ছিল এ ব্যাপারে একটি দিক নির্দেশনা জারি করা । কিন্তু সেটা করা হয়নি বলে ওই পত্রে স্বীকার করা হয়েছে।
তবে ওই সময় বাংলাদেশ ব্যাংক চেয়েছিল, উদ্বৃত্ত মুনাফা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলো নিজেরাই নিক। সে কারণেই দিকনির্দেশ দেওয়া হয়নি। তাছাড়া বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যথাযথ কাজ নয় বলেই বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে।



