হরতালের ইস্যুটিকে অযৌক্তিক আখ্যায়িত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে প্রস্তাব সংসদে তুলে ধরতে বিরোধী দলের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার পরিবেশ দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “বিরোধী দল যে ইস্যুতে হরতাল ডেকেছে, তার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তারা আদালতের রায় মানবেন না। আমি তাদের বলবো- তাদের কোনো ফর্মূলা থাকলে সংসদে এসে বলুক। তাদের জন্য তো সংসদের দ্বার উন্মুক্ত।”
গত ৩১ মে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এবং গত শুক্রবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকেও হাসিনা বিরোধী দলকে সংসদে ফেরার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সে আহ্বানের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বহাল রাখার সুযোগই নেই। আবার বিরোধী দলকে সংসতে গিয়ে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। সুযোগই যদি না থাকে, তা হলে মতামত দিয়ে লাভ কী?”
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শুরুতেই হাসিনা হরতালের মধ্যেও উপস্থিত হওয়ার জন্য আগতদের ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের সভাপতি পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদ হরতালের সমালোচনা করে বলেন, “আজকের দিনে হরতাল ডেকে বিরোধী দল বাংলাদেশের মুখে কালিমা লেপন করেছে। তারা হরতাল ডেকে দূরদর্শিতা ও কাণ্ডজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে।”
অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কীভাবে পরিবেশ রক্ষা করবো। অনেক প্রাণীকূল হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এখনি সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কীভাবে আমরা আমাদের প্রকৃতি রক্ষা করবো।”
বিশ্বে উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে দূষণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সে জন্য ভূমির ওপরের এবং বৃষ্টির পানি ব্যবহারের জন্য সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথা জানান তিনি। কল-কারখানায় ইটিপি সচল রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
পানি দূষণ রোধে গৃহস্থালি কাজে রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার পরিমিত করার পরামর্শ দেন হাসিনা। শব্দ দূষণ রোধে অহেতুক ভেঁপু (হর্ন) বাজানো বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিবেশ রক্ষায় নদীর তলদেশের মোটা বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করে ইটের বিকল্প ‘হলব্লক’ তৈরির পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো- ‘আপনার সেবায় প্রকৃতি ও বন’।
পরিবেশ সংরক্ষণে অবদানের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভারনমেন্টাল সায়েন্সম এবার জাতীয় পরিবেশ পদক পায়। অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউটের পরিচালক খালেদ মেসবাহউজ্জামান প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক নেন।
পরিবেশ দূষণরোধে জাতীয় পরিবেশ পদক দেওয়া হয় ইওএস টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। পরিবেশগত শিক্ষা ও প্রচারে জাতীয় পরিবেশ পদক পেয়েছে সুন্দরবন সমর্থক কমিটি। কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ লিয়াকত আলী প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক নেন।
এরপর পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ২০১১ ও ২০১০ সালের চিত্রাঙ্কন এবং রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন শেখ হাসিনা।
নিমতলীর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে ২০১০ সালের পরিবেশ দিবসের সব অনুষ্ঠান স্থগিত হয়েছিলো।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মেসবাহ-উল-আলম ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনোয়ার ইসলাম।
হাসিনা বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদ্বোধন ঘোষণার পর দর্শক সাড়িতে বসে বুড়িগঙ্গা রক্ষায় একটি প্রামাণ্য চিত্র এবং শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় পরিবেশ রক্ষায় একটি গীতিনাট্য দেখেন।



