অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সংসদের বাজেট অধিবেশনে ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকার এই বাজেট ঘোষণা শুরু করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রীর এ বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশ ও জনগণের মঙ্গলের জন্য কিছু নেই বলে তারা মন্তব্য করেন।
এছাড়া দলীয় নেত্রীর নির্দেশ মতো দলের সিদ্ধান্ত ছাড়া বাজেট নিয়ে কথা বলবেন না বলেও অনেকে জানিয়েছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার বলেন, ‘এই বাজেট দিয়ে দারিদ্র বিমোচন সম্ভব নয়। জনগণের আশা-আকাঙ্খাও পূরণ হবে না।’
তিনি বলেন, ‘বাজেটে প্রবৃদ্ধির যে হার ধরা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। ১ কোটি ৬৩ লাখ ৫৮৯ কোটি টাকবার বাজেট চাহিদার চেয়ে বড় নয়। তবে তাদের কর্মকার্ন্ড কারণে এটা তাদের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। বাজেটে কিছু ভুল তথ্য ও পরিসংখ্যান দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।’
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দাকার মোশাররফ তার প্রতিক্রিয়ার বলেন, ‘বাজেট সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আমি শুনেছি আজ সংসদে বাজেট উত্থাপন করা হবে। তবে আমি শুনেছি অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশ করেছেন। আমি সারাদিন ব্যস্ত ছিলাম। টিভি দেখতে পারিনি, রেডিও শুনতে পারিনি। সুতরাং বাজেট সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা বাজে, আমি এখন বাসায় ফিরছি। আগামীকাল পত্রিকা দেখা ছাড়া বাজেট সম্পর্কে আমি কিছু বলেতে পারব না।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরেশেদ খান বলেন, ‘জিডিপি কমে গেছে। এই বাজেটের ফলে আরও কমে যাবে। ব্যাংকিং সেক্টর থেকে এত টাকা কখনো নেওয়া হয়নি। নতুন বাজেটে ব্যাংকিং সেক্টর থেকে আরও টাকা নেওয়া হবে। ব্যাংকিং সেক্টরে যদি টাকা না থাকে, তাহলে প্রাইভেট সেক্টরেও থাকবে না। এর ফলে ব্যাংকের তারল্য সঙ্কট দেখো দেবে।’
তিনি বলেন, ‘এই বাজেটের ফলে অর্থনৈতিক ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। এই বাজেটে জনগণের মঙ্গলের জন্য কিছু নেই। প্রবৃদ্ধির হার কমবে। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে বলে মনে হয় না। আমি মনে করি, এই বাজেটের ফলে দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেবে।’
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘বাজেটের ব্যাপারে আমি কোনো কথাই বলব না।’
পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়- আপনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মুখপাত্র। আজকের বাজেট সম্পর্কে আপনার কাছেই তো আমরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইব।
উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাজেটের বিষয়টি সিনিয়র নেতারা পরীক্ষা-নীরিক্ষা করবেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে এর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দলের নেত্রীর নির্দেশ আছে, বিষয়টি পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে আনুষ্ঠানিকভাবে এর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।’
খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এই বাজেট তো গত বছরের ধারাবাহিক বাজেট। বাজেটে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ অনেক বিষয়েই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, যে বিষয়গুলো দেশ ও দেশের জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটা জনগণের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে, তা আমি মনে করি না।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘বাজেট যে পেশ হয়েছে তা আমি দেখিনি, বাজেটে যে কী আছে তাও আমি জানিনা। আমি সারাদিন শ্রমিকদলের একটি মিটিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। সরি, আমি এ বিষয়ে কোনো কিছুই বলতে পারব না।’




Posted on Oct 20, 2011
Articles like this are an exmalpe of quick, helpful answers.