বাজেট বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ-সিপিডি

Print This Post Email This Post

প্রস্তাবিত ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে বেসরকারি গাবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ- সিপিডি। তবে সংস্থাটি মনে করছে, প্রস্তাবিত এই বাজেট বাস্তবায়ন অসম্ভব নয়। এজন্য বিশেষ নজর দিতে হবে।

সিপিডি বলছে, বিদ্যমান অর্থনীতির নানামুখি চাপ, প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থায়ন, বাজেট ঘাটতি, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যহীনতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সর্বোপরি উন্নয়ন প্রশাসনের অদক্ষতা এ বড় বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলবে।

শুক্রবার ঢাকার ব্রাক সেন্টারে বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির পক্ষ থেকে এ অভিমত তুলে ধরা হয়।

সিপিডির পক্ষে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বাজেট পর্যালোচনা তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সাম্মানিক ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, গবেষণা বিভাগের প্রধান ফাহমিদা খাতুন, জ্যেষ্ঠ গবেষক খন্দকার মোয়োজ্জেম হোসেন প্রমুখ।

পর্যালোচনায় বলা হয়- দেশের অর্থনীতির প্রয়োজনের তুলনায় প্রস্তাবিত বাজেট খুব একটা বড় নয়। তবে এর সাফল্য নির্ভর করছে বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও উন্নয়ন প্রশাসনের উৎকর্ষের ওপর। এজন্য প্রয়োজন উন্নয়ন প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

মোস্তাফিজ বলেন, ‘বর্তমান অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্য কমে যাওয়া, বিনিয়োগে মন্দাভাব, বিদ্যমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়া, রেমিটেন্সে নেতিবাচক প্রবণতা,  ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, ব্যাংক ঋণের সুদের হার সহ বেশ কিছু ঝুঁকি রয়েছে। তাই সরকারকে এসব মোকাবেলা করে  অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সেই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

সিপিডির মতে, মূল্যস্ফীতি ও তারল্য সঙ্কট ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা হতে পারে। তাছাড়া বড় আকারের এ বাজেট বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কোনো কৌশল অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় দেখা যায়নি। যেটুকু আছে সেগুলো বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সুনির্দিষ্ট কৌশল থাকা উচিত ছিলো।’

মোস্তাফিজ বলেন, ‘আমাদের দেশে টাকা আয় করার চেয়ে ব্যয় করা কঠিন হয়ে যায়। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির যে প্রাক্কলন করা হয়েছে, তা খরচ করা সম্ভব হবে না। আবার খরচ করতে গিয়ে গুণগত মান রক্ষা হবে না।’

এজন্য সংশ্লিষ্টদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রস্তাবিত বাজেটে এডিপির নতুন প্রকল্প মাত্র ৫ শতাংশ। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সিপিডি বলছে, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকার ঋণ নিলে তা ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট        (নগদ মুদ্রা সংকট)  সৃষ্টি করতে পারে। এতে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে। যা সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বলা হয়েছে আসছে অর্থ বছরে রপ্তানি ১৪ শতাংশ বাড়বে। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধি নিয়ে জিডিপি অর্জন উচ্চাভিলাষী।

মোস্তাফিজ বলেন, ‘রাজস্ব বাড়াতে সরকারের কর প্রশাসনের সক্ষমতা বাড়ানোর বিশেষ উদ্যোগ নেই। এছাড়া বৈদেশিক সহায়তা ছাড় করার ক্ষেত্রেও সরকারি প্রশাসনের অদক্ষতা রয়েছে। তাই এদিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন ছিলো।’

পিপিপি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পিপিপি ভালো একটি দিক হলেও এখনও বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। বেগ পাচ্ছে না। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ জরুরি।

সিপিডির মতে, রাজস্ব আওতা পুনর্গঠন এক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। আবার আমদানি শুল্ক বাড়ানোয় স্থানীয় শিল্প সুরক্ষা পাবে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব বাড়বে। তবে রপ্তানি উৎস করা পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।

কৃষি ও গ্রামীণ অবকাঠামোত বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে মনে করে সিপিডি। তাদের পর্যবেক্ষণ মতে, এটি অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াবে। বরাদ্দকৃত অর্থের চেয়ে আরও ২৪ হাজার কোটি টাকা বেশি অর্থ এখাতের জন্য প্রয়োজন হতে পারে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে বলা হয়, নানা উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ। বিগত বছরগুলোতেও প্রচুর অর্থ খরচ হয়েছে। তবে অগ্রগতি হয়নি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড.দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে বাজেট সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তবে প্রায়োগিকভাবে নয়।’

তিনি বলেন, ‘অর্থায়ন ঝুঁকি বাজেটে বড় বিষয় বলে মনে হচ্ছে। এতে বেসরকারি খাত সংকটে পড়তে পারে।’

কালো টাকা সাদা করার সুযোগেরও নীতিগত বিরোধিতা করেন তিনি। তার মতে, ‘এটা অর্থনীতির জন্য ভালো কিছু নিয়ে আসে না। তাছাড়া বাজারেই নেই এমন একটি খাতে কীভাবে এ অর্থ ব্যবহার হবে।’

দেবপ্রিয় বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী গাড়ি চালাতে চাইলে অবশ্যই সিটবেল্ট বেঁধে নিতে হবে। বিদ্যমান অর্থনীতির চাপের মুখে সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’

পাঠকের মন্তব্য

বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:

কীবোর্ড Bijoy      UniJoy      Phonetic      English
নাম: *
ই-মেইল: *
মন্তব্য: