জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে লঞ্চ ও নৌযানের ভাড়াও পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি খসড়া তৈরি করেছে এ সংক্রান্ত কমিটি। মঙ্গলবার নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্ত্রণালয়ের ভাড়া নির্ধারণ কমিটির প্রধান বিআইডব্লিউটিএর সদস্য (অর্থ) মতিয়র রহমান বলেন, “ভাড়া বৃদ্ধির একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। তবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তই ভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত হবে।”
কমিটির সদস্য উপসচিব শহীদুল ইসলাম জানান, বিআইডব্লিউটিএ খসড়াটি মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে। মন্ত্রণালয়ের সভায় নতুন ভাড়া চূড়ান্ত করা হবে।
লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল জানান, নতুন ভাড়ার খসড়া তৈরি হলেও সরকারের সঙ্গে লঞ্চ ও নৌযান মালিকদের সমঝোতা হয়নি। দুই পক্ষের মত নিয়ে একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। মঙ্গলবার মন্ত্রীর উপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের সভায় এটি চূড়ান্ত করা হবে।
তিনি জানান, কমিটির করা খসড়া প্রস্তাবে ১০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বে যাত্রার ক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি মাথাপিছু ভাড়া এক টাকা ৩০ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি এক টাকা এবং ন্যূনতম ভাড়া ১২ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে মালিকপক্ষ ১০০ কিলোমিটারের নিচে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া এক টাকা ৪০ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে এক টাকা ১০ পয়সা এবং ন্যূনতম ভাড়া ১৪ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
এর আগে গত ৫ মে সিএনজি এবং ৮ মে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। এই প্রেক্ষিতে স¤প্রতি বাস ভাড়াও বৃদ্ধি করা হয়।
এরপর লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার আবেদনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় নৌপথের ভাড়াও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ জুন মন্ত্রণালয়ের এক সভায় বিআইডব্লিউটিএর সদস্য (অর্থ) মতিয়র রহমানকে প্রধান করে ভাড়া নির্ধারণ কমিটি করা হয়।



