আমার চেয়ে কে বেশি দেশপ্রেমিক?

Print This Post Email This Post

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কনকো-ফিলিপসের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা এখন দেশপ্রেমের কথা বলছেন, দেশের কোনো সংকটেই তাদের পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, “আমার চেয়ে কে বেশি দেশপ্রেমিক? আমার চেয়ে দেশের স্বার্থ নিয়ে কে বেশি চিন্তা করে?- এটাই আমার প্রশ্ন।”

শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিনিয়োগ বোর্ডের ১৪ তলা সদর দপ্তরের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বঙ্গোপসাগরের দুটি ব্লক থেকে তেল-গ্যাস উত্তোলনের জন্য সরকার গত বৃহস্পতিবার কনকো-ফিলিপসের সঙ্গে ‘উৎপাদন-বণ্টন’ চুক্তি করে। তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি শুরু থেকেই এ চুক্তির বিরোধিতা করে আসছে। চুক্তি বাতিলের দাবিতে আগামী ৩ জুলাই ঢাকায় অর্ধদিবস হরতালও ডেকেছে তারা।

কমিটির বক্তব্য, কনকো-ফিলিপসের সঙ্গে চুক্তি হলে মডেল পিএসসি অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০ শতাংশ গ্যাস পাবে। বাকি ৮০ শতাংশ গ্যাস নির্দিষ্ট দরে কিনে নিতে হবে। বাংলাদেশ ওই গ্যাস কিনতে না পারলে কনকো-ফিলিপস তা রপ্তানি করতে পারবে।

চুক্তির বিরোধিতাকারীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা যখন দেশের জন্য কাজ করছি, আপনারা তখন বিরোধিতা করছেন। যখন বিদ্যুৎ গ্যাস ছিল না, তখন তো কিছু বলেননি।”

দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু করা হবে না বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর তার সরকার বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এ জন্য বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান শিথিল করার পাশাপাশি অবকাঠামো ও সেবাখাতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সম্পদের স্বল্পতা থাকার পরও সেবাখাত ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়েঅগ করছে সরকার। এর সুফলও পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিনিয়োগ খাতে করঅবকাশ সুবিধা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রৎধানমন্ত্রী।

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলোতে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বব্যাপী এফডিআই প্রবাহ কমে গেছে। এরপরও ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ৭০ কোটি ডলারেরও বেশি এফডিআই পেয়েছে। আর ২০১০ সালে ৯১ কোটি ডলারের বেশি এফডিআই এসেছে।

বিদেশি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বিনিয়োগবান্ধব দেশ হিসেবে বিবেচনা করলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা এখানে বিনিয়োগ করতেও আগ্রহী হচ্ছে।

“আমাদের ভৌগোলিক অবস্থান, সাশ্রয়ী ও সহজে প্রশিক্ষণযোগ্য শ্রমশক্তি, সহজ আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, ক্রমবর্ধমান আভ্যন্তরীণ বাজার ও আকর্ষণীয় বিনিয়োগ প্রণোদনা বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে।”

গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান ও বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. এস এ সামাদ।

সরকারের অর্থায়নে ৯৮ কোটি ৩৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে জাতীয় বিনিয়োগ বোর্ডের সদর দপ্তরের ১৪ তলা ভবন নির্মাণের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত বিভাগ।

পাঠকের মন্তব্য

বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:

কীবোর্ড Bijoy      UniJoy      Phonetic      English
নাম: *
ই-মেইল: *
মন্তব্য: