মাদকের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন।
সেইসঙ্গে বর্তমান সরকার দেশ থেকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূলে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সন্ত্রাস ও মাদক প্রতিরোধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকটির আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল’ রিসার্স অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এলার্ট) নামে একটি সংস্থা।
সাহারা খাতুন বলেন, যুব সমাজকে মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। এজন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে।
এ সময় অন্যান্য বক্তারাও বক্তব্য রাখেন।
তারা বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া সামাজ ও দেশ থেকে সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। শুধুমাত্র মাদকসেবীদের ধরলে হবে না, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে মাদকের উৎপাদন এবং সরবরাহও বন্ধ করতে হবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত, সীমান্ত সুরক্ষা, আইনের ফাঁক ফোকর বন্ধসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব বলে অভিমত দেন তারা।
মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্তত ৬ বছর সাজার বিধান রাখা উচিত বলেও মনে করেন তারা।
একই সঙ্গে বছরে প্রায় মাদক সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩৫ হাজার মামলা হয় বলে জানান মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক আবু তালেব।
এলার্ট’র সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গির আলম খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার।
তিনি বলেন, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের মধ্যে জবাবদিহিতা থাকতে হবে। এর মাধ্যমে মাদক নির্মূল অনেকাংশে সম্ভব।
এক্ষেত্রে আইনের দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে হাসান মাহমুদ বলেন, আইনের দুর্বলতার কারণে অনেক বড় মাদক ব্যবসায়ীকে ধরার পরেও তারা জেল থেকে বেরিয়ে আবার একই অপরাধ শুরু করে।
এজন্য পরিবর্তিত অবস্থায় আইনের পরিবর্তন ও পরিবর্ধন জরুরি বলে মত দেন তিনি।
এছাড়া সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে প্রযুক্তিনির্ভর আভিযানিক কার্যক্রম চালানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এলার্টের উপদেষ্টা মনোরঞ্জন ঘোষাল।
এতে নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর আলোচনা করেন পুলিশের আইজিপি (সমন্বয়ক) ফনিভূষণ চৌধুরী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. দূর্গাদাস ভট্টাচার্য, সাংসদ জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, ডেইাল সানের সম্পাদক অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, এফবিসিসি আই’র প্রথম সহ-সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, অধ্যাপক ইফফাত আরা নারগীস, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি আসাদুজ্জামান মিয়া, র্যাব-৩ কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল রফিকুল ইসলাম, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক আবু তালেবসহ শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



