অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ হওয়ার কারণেই খালেদা জিয়া পঞ্চদশ সংশোধনী ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার কথা বলেছেন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে সংবিধান নিয়ে খালেদার মতো ঔদ্ধত্য ও ধৃষ্টতাপূর্ণ এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক বক্তব্য দিতে না পারে- সে বিষয়ে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী হলো সংবিধানের রক্ষাকবচ।
আর যাতে কেউ সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে না পারে- এই সংশোধনীর মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিরোধী দলের নেত্রীর এটা পছন্দ হয়নি।
গত ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাও বাতিল করা হয়।
প্রধান বিরোধী দল বিএনপি শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিল। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ১৩ জুলাই এক অনুষ্ঠানে বলেন, আগামীতে সরকার পরিবর্তনের পর সংবিধানের এ সংশোধনী ছুঁড়ে ফেলা হবে।
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধী দলীয় নেতার সাংবিধানিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে খালেদা জিয়া সংবিধান ছুঁড়ে ফেলার যে অশালীন বক্তব্য দিয়েছেন- তা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। সংবিধান নিয়ে যারা এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন, তাদের দেশপ্রেম কতটুকু রয়েছে- তা প্রশ্নসাপেক্ষ।
আমরা ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি। এই সংবিধান নিয়ে কেউ অশালীন বক্তব্য রাখবেন, তা কখনোই কাম্য হতে পারে না, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমান আর্মি অ্যাক্ট ভঙ্গ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেছিলেন, যা ছিল সম্পূর্ণভাবে সংবিধানবিরোধী। তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দিতে চাইবেন এটাই তো স্বাভাবিক।
যারা সংবিধান নিয়ে অশালীন’ বক্তব্য দিচ্ছে- তারা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পরাজিত শক্তির পক্ষে ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধী দলীয় নেতার স্বামী অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সঙ্গিনের খোঁচায় এবং সামরিক অধ্যাদেশ দিয়ে সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করে স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেন। সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও চেতনাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয় তখন।
সব ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করে সংবিধান সংশোধন হয়েছে- এমন দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ বলছেন, সংবিধানে আল্লাহর নাম দেখতে পাচ্ছেন না। যদি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমের মধ্যেও তারা আল্লাহর নাম খুঁজে না পান- তাহলে তাদের চোখ থাকতেও অন্ধ বলা ছাড়া আর কী উপায় আছে?
বিরোধী দল যুদ্ধাপরাধী, গ্রেনেড হামলাকারী এবং দুর্নীতিবাজ ও অর্থপাচারকারীদের রক্ষার জন্যে আন্দোলনের নামে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে অভিযোগ করে এর বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হাসিনা।
তিনি বলেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান, তাহলে তিনি বলুন যে ২০০৮ সালের নির্বাচনও অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে। তার দলের ৩০টি আসন পাওয়াই ছিল যুক্তিযুক্ত।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অষ্টম ওয়েজবোর্ড, সাংবাদিক কল্যাণ ফান্ড গঠন, আবাসনসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সমস্যার কথা শোনেন এবং অষ্টম ওয়েজবোর্ড গঠনে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তথ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জন্যে পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি কল্যাণ ফান্ড গঠনের আশ্বাস দেন।
তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম এ করিম, প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল, আলতাফ মাহমুদ, উৎপল সরকার, মধুসূদন মণ্ডল ও আতাউর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।




Posted on Aug 12, 2011
Cool! That’s a clever way of looikng at it!