নরওয়ের অসলোয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে বোমা বিস্ফোরণ এবং এক দ্বীপে বন্দুকধারীর গুলির্বষণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২ হয়েছে। এ সংখ্যা ৯৮-এ পৌঁছুতে পারে।
নরওয়ের স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে বোমা বিস্ফোরণে সাতজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দ্বীপে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। পুলিশের পোশাক পরিহিত বন্দুকধারীর গুলিবর্ষণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ হওয়ায় নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ৯২।
পুলিশের ধারণা গাড়িবোমার মাধ্যমে এ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়ে থাকতে পরে। উটোইয়া দ্বীপে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির যুব সংগঠনের সম্মেলনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিখোঁজরা মৃত বলে প্রমাণিত হলে মোট নিহতের সংখ্যা ৯৮ হতে পারে বলে জানিয়েছেন অসলোর ভারপ্রাপ্ত পুলিশপ্রধান স্ভেইনাঙ স্পনহাইম।
দ্বীপে গুলিবর্ষণকারী অ্যান্ডার্স বেরিং ব্রেইভিককে গ্রেপ্তার করছে অসলো পুলিশ। অসলো বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দোষী প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ২১ বছর কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গুলিবর্ষণের দেড় ঘণ্টার মাথায় নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ শাখা সোয়াটের একটি দল উটাইয়ো দ্বীপ থেকে অ্যান্ডার্সকে গ্রেপ্তার করে বলে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান স্ভেইনাঙ স্পনহাইম। দ্বীপটি অসলো থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
অ্যান্ডার্স আত্মসমর্পণ এবং ঘটনা স্বীকার করেন জানিয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, আমরা এখনো জানি না তার কোনো সহযোগী ছিলো কি না।
অ্যান্ডার্স অভিবাসনবিরোধী একটি সংগঠনের সদস্য ছিলেন। তিনি বহু-সংস্কৃতিবাদ এবং ইসলাম ধর্মকে আক্রমণ করে বেশকিছু ব্লগ লিখেছিলেন। তবে পুলিশ বলছে, তার সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা ছিলো না।
এছাড়া ব্লগপোস্টগুলোয় সহিংসতার কোনো আভাস পাওয়া যায়নি।
২০০৪ সালে স্পেনের মাদ্রিদে ট্রেনে বোমা হামলায় ১৯১ জন নিহত হওয়ার পর এটিই ইউরোপে সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ হামলা।
লিবিয়ায় ন্যাটো অভিযানেও নরওয়ে অংশ নিচ্ছে। এর জবাবে ইউরোপে পাল্টা হামলা চালানোরও হুমকি দিয়েছিলেন লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি।
আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও নরওয়ের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা পরিকল্পনায় জড়িত সন্দেহে তিন ব্যক্তিকে আটকের এক বছরের মাথায় সেখানে এ হামলা হলো।



