সোনিয়া গান্ধীকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ় হলে এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠিই লাভবান হবে।
সোনিয়ার ঢাকা সফরের মধ্যে সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির এ সদস্য।
অটিজম বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে রোববার ঢাকায় আসেন ভারতের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তি সোনিয়া গান্ধী। এ সফরে ইন্দিরা গান্ধীকে দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের সম্মাননাও নেবেন তিনি।
মোশাররফ বলেন, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বাংলাদেশ সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করি। ঢাকায় তাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি, দুই দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে তার সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিস্তার পানি বণ্টন, সীমান্ত বিরোধ ও মানুষ হত্যা, সমুদ্রসীমা নির্ধারণ ও টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণসহ অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে সোনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রত্যাশা করছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী না থাকলেও ভারত সরকার কার্যত সোনিয়ার কথায় চলে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ বলেন, আমি মনে করি দুই দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় হলে এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠির উন্নয়ন এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ প্রতিবেশী বৃহৎ রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে সমতা ও সম্মানের ভিত্তিতে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।
সাংস্কৃতিক একাডেমি নামে একটি সংগঠনের আয়োজনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফর : শঙ্কা ও সম্ভাবনা শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মোশাররফ। আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা আসছেন মনমোহন।
আলোচনার শিরোনামে শঙ্কা থাকলেও আশার কথাই শোনা যায় বিএনপির নেতার কণ্ঠে। তিনি বলেন, আমরা আশা করি, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান করে বাংলাদেশের জনগণকে তারা (ভারত) আশার আলো দেখাতে পারেন। আমরা চাই, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর ন্যায্য সমাধান হবে, যাতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
অমীমাংসিত সমস্যা সমাধান না হওয়ার পেছনে বর্তমান সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নীতিকে দায়ী করে মোশাররফ বলেন, আমাদের সমস্যাগুলো যদি সঠিকভাবে সাহসের সঙ্গে ভারতের কাছে উপস্থাপন করা যায়, অবশ্যই ভারত এক্ষেত্রে সমাধান দেবে বলে আমরা মনে করি। কিন্তু তা করা হয় কিনা- এ নিয়ে জনগণ শঙ্কিত।
স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত যেভাবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে, সেভাবেই সমতার ভিত্তিতে আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে এদেশের জনগণ ভারতকে বন্ধু হিসেবে দেখতে চায়, বলেন তিনি।
মোশাররফ এ কথা বললেও গত বছর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পর বিএনপি নেতারা বলেছিলো, শেখ হাসিনা ভারতকে সব দিয়ে এসেছেন।
ভারতের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সময়ে করা বিভিন্ন চুক্তি জাতীয় সংসদ কিংবা জনসমক্ষে প্রকাশ করার দাবিও জানান মোশাররফ।




Posted on Oct 20, 2011
I sareched a bunch of sites and this was the best.