
ঝিনাইদহ থেকে শেখ শফিউল আলম লুলু: ঝিনাইদহ সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের গনিতের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৮ ছাত্রী যৌন হয়রানীর লিখিত অভিযোগ করেছেন৷ এ ঘটনায় স্কুলের পরিবেশ বিস্ফোরোন্মুখ হয়ে উঠেছে৷ কিন্তু পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিভাবক মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে৷
ঝিনাইদহ সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বেগম আফরোজা হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান তার স্কুলের ম্যাত শিক্ষক বিধান চন্দ্র রায় প্রাইভেট পড়ুয়া ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও ছাত্রীদের শরীরে হাত দেন বলে গত ১৯ জুলাই একটি লিখিত অভিযোগ পত্র পান৷
প্রধান শিক্ষিকা আরো জানান ওই অভিযোগ পত্রে ইংরেজী শিক্ষক সুলতান কবির ও বানিজ্যের শিক্ষক সুশিল চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে৷ কিন্তু এ দুই জনের বিরুদ্ধে যৌন হয়ানীর অভিযোগ নয়৷ তাদের আচরণ বদমেজাজী৷ প্রধান শিক্ষিকা জানান লিখিত অভিযোগটি পেয়ে তিনি খুলনা বিভাগীয় শিক্ষা অধিদপ্তরের ডেপুটি ডাইরেক্টর টিএম জাকির হোসেনের কাছে পাঠিয়ে দেন৷ ২৩ জুলাই ডেপুটি ডাইরেক্টর (ডিডি) টিএম জাকির হোসেন ঝিনাইদহ সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবাদুল ইসলাম ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে অভিযোগকারী ৮ ছাত্রীসহ ৪০ জন মেয়ের সাক্ষ্য গ্রহন করেন৷ কিন্তু এ প্রতিবেদন লেখা আগ পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত বা তদন্তের ফলাফল স্কুলে পৌছায়নি৷ বিষয়টি নিয়ে খুলনা বিভাগীয় শিক্ষা অধিদপ্তরের ডেপুটি ডাইরেক্টর টিএম জাকির হোসেন জানান, ঘটনা তদন্ত করে ডিজি অফিসে পাঠানো হয়েছে৷ ২/১ দিনের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তমুলক বদলী হবে বলে তিনি আশা করেন৷ তিনি বলেন ছাত্রীদের অভিযোগ একেবারে মিথ্যা নয়৷ এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক বিধান চন্দ্র রায় জানান তিনি ৬টি ব্যাচে ৬০ জন ছাত্রীর প্রাইভেট পড়ান৷ কোন ছাত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণ বা গায়ে হাত দেন নি৷ তিনি জানান একজন ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষক হিসেবে যে আচরণ করা প্রয়োজন তাই করেছেন৷ সরকারী চাকরী করে প্রাইভেট কেন পড়ান এমন প্রশ্নের উত্তরে বিধান চন্দ্র রায় জানান স্কুলের সব স্যার প্রাইভেট পড়ান বলে তিনিও পড়ান৷ তিনি জানান প্রাইভেট পড়িয়ে তিনি মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় হলেও তিনি সরকারকে কোন আয়কর দেন না৷ এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক রমারানী রায় জানান, বিষয়টি গুরুতর হওয়ায় তিনি বিভাগীয় কমিশনারকে জানিয়েছেন৷ বিভাগীয় কমিশনার সংশ্লিষ্ট বিভাগকে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগেই অভিযুক্তদের বদলী করার নিদেৃশ দিয়েছেন৷ এ ব্যাপারে শিৰক বিধান চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি৷



