দিনাজপুর থেকে আনিস হোসেন দুলাল:
দিনাজপুরের বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ জুড়ে এখন চলছে আমন রোপনের ধুম৷ বর্ষা মৌসুম শুরু আগে থেকে এবার দিনাজপুরে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকেরা মহা উলস্নাসে আমন রোপন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে৷ শেষ মূহুর্তে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও রোগ বালাইয়ের সংক্রমন না হলে বোরো আবাদের মতো জেলায় আমনেরও বাম্পার ফলন হবে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে৷
দিনাজপুরে মধ্য আষাঢ় থেকে পুরো শ্রাবন মাস জুড়ে আমন রোপনের মূখ্য সময় হলেও এবার প্রচুর বৃষ্টি পাতের কারনে পুরো আগষ্ট মাস জুড়ে জেলায় আমন রোপন হবে বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন৷
দিনাজপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত জুন মাসে জেলার ৩০৩ দশমিক ৯০ মিলিমিটার এবং জুলাই মাসে ২৩৭ দশমিক ০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে৷ চলতি আগষ্ট মাসের প্রথম ৫ দিনে গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৪৫ দশমিক ৮৩ মিলিমিটার৷ আমন রোপনের জন্য এই বৃষ্টিপাতের পরিমানকে পর্যাপ্ত বলে মনে করছে জেলার কৃষি বিভাগ ও কৃষকেরা৷
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ১৩টি উপজেলায় দেশীয় ও উফশী জাত মিলিয়ে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৯৮ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লৰ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে৷ আবাদের লৰ্যমাত্রা ধরা হয়েছে (চালের আকারে) ৬ লক্ষ ২৯ হাজার ৩৮৪ মেঃটন৷ আমনের উত্পাদন যেন ভাল হয় সে লৰ্যে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরন কৃষকদের হাতে পৌছে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে৷ আমন মৌসুমে জেলায় ৩৩ হাজার ১ মেঃটন ইউরিয়া, ৮ হাজার ১৭৪ মেঃটন টিএসপি, ৫ হাজার ৮৯২ মেঃটন ডিওপি, ৬ হাজার ৭৫ মেঃটন এমওপিসহ অন্যান্য সার মিলিয়ে প্রায় ৬০ হাজার মেঃটন সারের প্রয়োজন৷ জেলার ১৩০ জন বিসিআইসি সার ডিলার ও ৮৮৪ জন খুচরা ডিলারের মাধ্যমে জেলার ১৩ টি উপজেলায় সুষ্ঠভাবে সার বিতরন কার্যক্রম মনিটরিং হওয়ায় কৃষকদের আমন আবাদে বিশেষ সহায়ক হয়েছে৷
জেলা কৃষি সম্প্রসারন দপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ সিকান্দার আলী জানান, সার ও বীজের পাশাপাশি এবার জেলায় পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারনে কৃষকেরা আমন আবাদে উত্সাহিত হয়েছেন৷ এ পর্যন্ত লক্ষ মাত্রার ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ জমিতে আমন রোপন সম্পন্ন হয়েছে৷ আগামী ১৫ আগষ্টের মধ্যে বাকী লক্ষমাত্রা পূরন হয়ে যাবে৷ প্রতিদিন যে ভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এতে করে পুরো আগষ্ট মাস জুড়েই জেলায় আমন রোপন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে৷ এতে করে লক্ষমাত্রা অনেক ছাড়িয়ে যেতে পারে৷
সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের বড়ইল গ্রামের কৃষক নগেন্দ্র নাথ রায়, জালাল উদ্দিন, শ্রীকমলা কান্ত রায়, বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর গ্রামের ফজলুর রহমান, ক্ষিতিশ চন্দ্র রায়, কাহারোল উপজেলার আবু জাফর, ফজলার রহমান, বিকাশ চন্দ্র বর্মন জানান, গত ৫ বছরে আমন মৌসুমে এতো বৃষ্টিপাত হয়নি৷ ইউরিয়া সারের মূল্য কিছুটা বেশী হলেও বীজসহ অন্যান্য কৃষি উপকরন সময়মতো হাতে আসায় তারা জমিতে আমন রোপন করতে পেরেছেন৷ অন্যান্য বছর গুলোতে এসময় শ্যালো চালিয়ে তাদের বীজ বপন করতে হতো৷ কিন্তু এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় তারা আবাদ করে অনেক লাভবান হতে পারবেন বলে জানান৷
এদিকে দিনাজপুরের বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, উঁচু জমি গুলোতেও ৫ থেকে ৬ ইঞ্চি বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে৷ যা আমন আবাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন৷



