গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা!

Print This Post Email This Post

ঝিনাইদহ থেকে শেখ শফিউল আলম লুলু :
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কোদালিয়া গ্রামে মঙ্গলবার রাতে স্বামী ও শ্বশুরালয়ের নির্যাতনে সাজেদা খাতুন(৩২) নামের এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে৷ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আত্মহত্যা বলে অপপ্রচার করা হচ্ছে বলে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন৷

এলাকাবাসী জানায়, ১৪ বছর আগে মাগুরা সদর উপজেলার রাউতড়া গ্রামের মোমরেজ শেখের মেয়ে সাজেদা খাতুনের সাথে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের রুহুল বিশ্বাসের ছেলে সাইফুল ইসলামের সাথে বিয়ে হয়৷ বিয়ের সময় যৌতুক হিসাবে ৫০ হাজার টাকা তার জামাই সাইফুল ইসলামকে দেয়৷

ঘরসংসার করাকালীন সময় সাজেদার স্বামী প্রায়ই যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রী সাজেদার উপর শারিরীক নির্যাতন করত৷ এক পর্যায়ে মঙ্গলবার রাতে ঘাতক স্বামী সাইফুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকেরা গৃহবধু সাজেদার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে৷

বুধবার সকালে গলায় শাড়ী পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে ঘরের আড়াই ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেন৷ এদিকে নিহতের স্বামী সাইফুল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷ এ বিষয়ে নিহতের শ্বশুর রুহুল বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি৷

গৃহবধু সাজেদার ভাই মাজেদুল ইসলাম জানান, কিছু দিন আগেও তার বোনের সংসারের সুখের কথা ভেবে সহায়সম্বল বিক্রি করে ভগ্নিপতি সাইফুল ইসলামকে আরো ৬০ হাজার টাকা দেয়৷ এরপরও আমার বোনকে ভগ্নিপতি সাইফুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকেরা নির্যাতন করে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা চালায়৷

বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সাইফুল ইসলাম প্রভাব শালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় থেকে গৃহবধুর পরিবারের লোকের উপর চাপ সুষ্টি করছে বলে নিহতের ভাই অভিযোগ করেন৷

নিহতের পিতা মমরেজ শেখ জানান, সোমবার জামাই মেয়েকে ৫ হাজার টাকা আমার কাছ থেকে আনতে মাগুরায় পাঠায়৷ আমি দরিদ্র মানুষ টাকা দিতে পারেনি৷ মঙ্গলবার মেয়ে খালি হাতে ফিরে যায়৷ এ জন্য জামাই গালিগালাজ ও খুব মারধর করে৷ বুধবার মেয়ের মৃতু্যর খবর পায়৷

এই ঘটনায় সদর থানায় একটি অপমৃতু্য মামলা হয়েছে৷ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রিপন কুমার দাস জানান, গৃহবধু সাজেদা খাতুনের লাশ ঝুলন্ত অবন্থায় ঘরের আড়া থেকে উদ্ধার করা হয়৷ ঝুলন্ত অবস্থায় কারো মৃত্যু হলে তার গলায় দাগ থাকে, কিন্তু নিহতের দাগ পাওয়া গেছে মাথায়৷ হত্যা সন্দেহে লাশটি ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছ৷ ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হওয়া যাবে৷

পাঠকের মন্তব্য

বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:

কীবোর্ড Bijoy      UniJoy      Phonetic      English
নাম: *
ই-মেইল: *
মন্তব্য: