বিলুপ্তপ্রায় ময়মনসিংহের মৃত্শিল্পের কদর বেড়েছে৷ মৃত্ শিল্পি অর্থাত্ পালদের মাঝে দিখা দিয়েছে আশার আলো৷
মাটির হাঁড়ি-পাতিলের চাহিদা ও কদর বেড়েছে৷ এ শিল্পে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া৷ তৈরী হচ্ছে ডিসকো পাতিল রেল ও সড়কপথে যাচ্ছে ঢাকা, চট্রগ্রাম, টাঙ্গাইল, জামালপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, সিলেট জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে৷
এই অঞ্চলে মৃত্শিল্পের জন্য খ্যাত মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, সদর, ত্রিশাল, ভালুকা, নান্দাইল, গফরগাঁও, ফুলপুর, হালুয়াঘাট, নান্দিনা, পিয়ারপুর এলাকার বিভিন্নগ্রাম৷ কথা হয় এসব গ্রামের পাল পরিবারের সাথে৷
তারা জানান, বছর দশেক হলো তাদের ব্যাবসার পালে হাওয়া লেগেছে, ফিরে পেয়েছে তাদের প্রায় হারানো বাপ দাদার ব্যবসা৷ তাদের তৈরী পণ্যের দাম ও কদর বেড়েছে৷ প্রতিদিন পাইকাররা আসঠে উপরোক্ত অঞ্চল থেকে৷ আধুনিক মডেলের হাঁড়ি-পাতিল যায় ট্রেন,ট্রাক ও নৌকা-লঞ্চে৷
গাজীপুরের পাইকার হামিদ মিয়া জানান, তাদের এলাকায় গরীব ও মাঝারি আয়ের গ্রামের লোকজনের মধ্যে মাটির হাঁড়ি পাতিলের আগে থেকেই চাহিদা রয়েছে৷ যোগাযোগ ভালো হওয়ায় এ আধুনিক জাতের মাটির তৈজসপত্রের চাহিদা বেড়েছে৷
দাম এখানেও বেশি৷ আগের প্রতি ২শ”পিস মাল এখন ২/৩ টাকার স্থলে ১/দেড় হাজার টাকায় খরিদ করতে হয়৷ এলাকায়ও বিক্রি হয় চড়া দামে৷এছাড়া ডিসকো জাতের পাতিল ও তৈজসপত্র প্রতি ১শ” পিস আড়াই হাজার টাকায় পাইকারী বিক্রি হচ্ছে৷
কথা হলো বনবাংলা গ্রামের সন্তোষ,হরিপদ পালের সাথে ৷ নিজে জিনিস তৈরী করেন ও গ্রাম এবং হাট-বাজাওে বিক্রি করেন৷তারা জানান, এখন আর আমাদের হাটে বা গ্রামে ঘুরে মাল বিক্রি করতে হয় না , দূর-দূরান্ত থেকে পাইকার এসে জিনিস নিয়ে যায়৷এখন আর চাহিদামতো মাল সরবরাহ দেয়া যায় না৷
অথচ ১০ বছর আগে সপ্তাহে ২/১ জন পাইকার পাওয়া যেত না ৷ বড় দুর্দিন ছিল আমাদের৷ রাস্তাঘাটই আমাদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে৷ কুমার/পালরা জানান, বর্তমানে এ শিল্পের সমস্যা হলো রং ও জ্বালানী সংকট৷
এ শিল্পের রং বলতে এক ধরনের মাটি, যা আমদানী করতে হয় অন্য অঞ্চল থেকে ৷ অত্রাঞ্চলে পাওয়া যায় না ৷ আগের দিনে রং কিনতে তেমন পয়সা লাগতো না ৷ এখন তা ৮০/৯০টাকা দরে কিনতে হয়৷এক্ষেত্রে যাতায়াত খরচ একটু বেশী৷
মনোনেশ দাস ময়মনসিংহ থেকে।



