দৃষ্টি নন্দন কান্ড শাখা আর পত্র পল্লবিত “তমাল তরু” আবহমান বাংলার একটি পরিচিত গাছ৷
বৈষ্ণব কবির কবিতায় একে তমাল তরু বলা হলেও এটি তরু নয় , এটি একটি মধ্যম আকারের অরণ্যক বৃক্ষ৷
এর উদ্ভিদ জাগতিক নাম “গার্মেনিয়া জেলখো সাইমাস”৷ কৃষ্ণ কালো তমাল শাখাঁর ফাকে আকাশকে অপরুপ নীল দেখায় বলে বোধ হয় এর আরেক নাম নীলধজ৷
হিন্দু সমপ্রদায় তমালকে পবিত্র বৃক্ষ হিসেবে পূজা দিয়ে থাকেন৷ এক সময় বৃহত্তর ময়মনসিংহের মাঠ-ঘাটে, বন-জঙ্গলে সারি সারি তমাল গাছ দেখা যেতো৷ এখন তা বিরল৷ তমাল এখন বিলীয়মান গাছ৷
তমাল শুধু রুপসর্বস্ব গাছ নয়, এর গুনও রয়েছে অনেক৷ এ গাছ থেকে রজন সদৃশ মূল্যবান উপাদান পাওয়া যায়৷ এর ফলের বীজ থেকে এক ধরনের মাখন প্রস্তুত হয়৷ যার ভেষজ গুণ রয়েছে৷
এই মাখন থেকে প্রস্তুত তেল ফাটা পায়ে লাগালে পা ফাটা সেরে যায়\ তমালের ফল,বীজ পাতা এবং নরম ডাল থেকে মূল্যবান ভেষজ প্রস্তুত হয়৷ বসন্তে গাছে ফল আসে , গ্রীষ্মে ফল পাকে ৷ পাকা ফল অল্পমধুর, সুস্বাদু, লোকে খায়৷ তমাল গাছ বেড়ে উঠতে সময় লাগে৷
বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্থানে এখনও বিক্ষিপ্তভাবে কিছু কিছু গাছ দেখা যায়৷ রুপে -গুণে অপরুপ এ গাছগুলো সংরক্ষণ জরুরী বলে মনে করে পরিবেশ বিদরা৷
মনোনেশ দাস ময়মনসিংহ থেকে।



