লিবিয়ার ক্ষমতাচ্যুত নেতা কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে গোপনে অজ্ঞাত স্থানে দাফন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন জাতীয় অর্ন্তবর্তী পরিষদ (এনটিসি)।
গত বৃহস্পতিবার গাদ্দাফি তার জন্ম শহর সির্তে থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় লিবিয়ার বিদ্রোহী যোদ্ধাদের হাতে ধরা পড়েন ও নিহত হন। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় অর্ন্তবর্তী পরিষদ ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা বেশ অস্বস্তির মধ্যে পড়ে যায়।
পরবর্তী সময়ে গাদ্দাফির মরদেহ মিসরাতার একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মার্কেটে রাখা হয়। সেখানে আগ্রহী মানুষজনকে গাদ্দাফির লাশ দেখারও সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তার মরদেহ নিয়ে কি করা হবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে বেশ সময় লাগে তাদের।
সোমবার মরুভূমির গোপন কবরস্থানে গাদ্দাফির মরদেহ সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দর্শনর্থীদের জন্য সাবেক ওই নেতার লাশ দেখা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
গাদ্দাফির আত্মীয়-স্বজনেরা তার লাশ সমাহিত করার সুযোগ চাইলেও এনটিসি তাতে সাড়া দেয়নি।
এনটিসির এক কর্মকর্তা সোমবার টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেন, তাকে (গাদ্দাফি) আগামীকাল (মঙ্গলবার) খুব সাদামাটাভাবে মরুভূমির অজ্ঞাত এক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে। তার মরদেহ ইতোমধ্যে মিসরাতা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গাদ্দাফির ৪২ বছরের শাসনাবসানের দাবিতে চলতি বছরের শুরুর দিকে লিবিয়ায় আন্দোলন শুরু হয়। কিন্তু গণদাবির মুখে ক্ষমতা থেকে সরে না দাঁড়িয়ে তিনি সরকারি বাহিনীর মাধ্যমে আন্দোলন দমনের পথ বেছে নেন।
আন্তর্জাতিক সপ্রদায়ের আহ্বান উপেক্ষা করে তিনি তার দমন-পীড়ন অব্যাহত রাখেন। ক্রমশ দেশটি গৃহযুদ্ধের দিকে চলে যায়। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে ন্যাটো দেশটির সাধারণ মানুষদের রক্ষার জন্য গাদ্দাফি অনুগত বাহিনীর সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো শুরু করে।
দীর্ঘ আট মাসের লড়াইয়ে একে একে সব অঞ্চল থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাদ্দাফি ও তার অনুগত বাহিনী গিয়ে আশ্রয় নেয় সির্তে। এই শহরটি গাদ্দাফির জন্মশহর এবং শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
শেষ পর্যন্ত গত বৃহস্পতিবার সেখান থেকে পালানোর সময় গাদ্দাফি এনটিসি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন এবং নিহত হন। তার এক ছেলে মোতাসসিমও ওই সময় নিহত হন।



