খুলনা থেকে বাবুল আকতার :
দীর্ঘ ৯ বছর বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হচ্ছে খুলনার দৌলতপুর জুট মিল৷আগামী বছরে প্রথম দিকে এ মিলটি উত্পাদনে যাওয়ার উদ্দোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন৷
এ ব্যপারে বিজেএমসির মৌখিক নির্দেশে স্থানীয় মিল কর্তৃপক্ষ গত তিনদিন ধরে রক্ষনবেক্ষনের কাজ শুরু করেছে৷ মিলটি চালুর জন্য বিজেএমসি প্রায় একশ’ কোটি টাকার প্রস্তাব দিলেও আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে ৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷ তবে অর্থ মন্ত্রনালয় থেকে এখনো কোন টাকা ছাড় দেয়া হয়নি৷ আপাততো বিজেএমসির অর্থ দিয়েই প্রাথমিকভাবে রক্ষনাবেক্ষনের এ কাজ শুরু করা হয়েছে৷
এ মিলটির উত্পাদন শুরু হলে প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক- কর্মচারীর কর্মসংস্থান হবে ৷
১৯৫৩ সালে ২২.৫৯ একর জমির ওপর খালিপুরের দৌলতপুর জুট মিল স্থাপন করা হয়৷ ১৯৫৫ সালে বাণিজ্যিক উত্পাদনের মধ্য দিয়ে মিলটির যাত্রা শুরু হয়৷
এর পর ১৯৬৫ সালে মিলটি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব করা হয়৷ লাভজনক মিল হিসেবে এ মিলটি এক সময় পুরস্কারও লাভ করে৷ চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র এক বছরের মাথায় ৪৮ কোটি টাকা দেনার অজুহাত দেখিয়ে ২০০২ সালের ৭ ডিসেম্বর বন্ধ করে দেয় এ মিলটি৷ এর ফলে প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে যায়৷ অনাহারে অর্ধাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে আন্দোলনে রাস্তায় নামে শ্রমিকরা৷
সেই সাথে বন্ধ করে দেয়া হয় মিলে নিম্ম মাধ্যমিক স্কুলটিও৷ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয় প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী ৷
খুলনাবাসীর দীর্ঘ আন্দোলনের মুখে মিলটি চালু না করে বরং বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় চালুর জন্য প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করে চারদীয় জোট সরকার৷ প্রাইভেটাইজেশন বোর্ড মিলটি বিক্রির জন্য টেন্ডার আহবান করে৷ কিন্তু শত্রু সম্পত্তির মিল হওয়ায় এটি হস্তান্তর যোগ্য না বলে আদালতের এক নিষেধাজ্ঞা হয়৷
যে কারণে বন্ধের দু’বছরের মাথায় মিলটি বিক্রির তালিকা থেকেও বাদ দেয়া হয়৷ এভাবে চলার পর যখন সরকার বদল হয় তখন চলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি৷ বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল শিল্প নগরী খুলনার বন্ধ মিল-কল-কারখানা চালুর আশ্বাস দেয়৷
আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পর্যাক্রমে বন্ধ মিল গুলো পুনরায় চালুর উদ্দোগ নেয়া হয়৷ চলতি বছরের ৫ মার্চ খালিশপুর জুট মিল(সাবেক পিপলস জুট মিল) উদ্বোধনের পর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৌলতপুর জুট মিল চালুর ঘোষনা দেন৷
এ আলোকে এ মিলটি চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়৷ বিজেএমসির পরিচালনা পর্ষদের সভার সিদ্ধান্তে মিলটির ইনভেনটারিও করা হয়৷ পরে মিল চালুর প্রাথমিক প্রস্তুতি অনুযায়ী ১শ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ মন্ত্রনালয়ে একটি প্রস্তাবনা প্রেরনের জন্য পাট মন্ত্রনলয়ে সুপারিশ পাঠায় বিজেএমসি৷ এর আলোকে আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে ৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার বিষয়টি অনুমোদন করা হয়৷ কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এখনও কোন অর্থ ছাড় দেয়া হয়নি৷
এব্যপারে বিজেএমসির পরিচালক(পরিকল্পনা) রিয়াজুল হক বলেন, মিলটি ধ্বংসের স্তুপ হতে যাচ্ছিল৷ পুনরায় চালুর উদ্দোগ নিয়ে সরকারের এ সম্পদটিকে বাচিয়েছে৷ পাটমন্ত্রনালয়ের নির্দেশে বিজেএমসির পরিচালনা পর্ষদের এক বৈঠকে এ মিলটি চালুর জন্য আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে৷ আমি স্থানীয় দৌলতপুর জুট মিল কর্তৃপক্ষকে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছি যন্ত্রাংশ মেরামতের জন্য৷ ইতি মধ্যে সে কাজ শুরু হয়েছে ৷ ঈদের পরে গুদাম মেরামতসহ অবকাঠামোর কাজ শুরু হবে৷ আগামী জানুয়ারী মাসে এ মিলটি উত্পাদনে যাবে৷ তবে অর্থ মন্ত্রনালয় থেকে টাকা ছাড় না হলেও বিজেএমসির অর্থ দিয়েই মিলটির প্রাথমিক রক্ষনবেক্ষনের কাজ শুরু হয়েছে৷
দৌলতপুর জুট মিলের প্রকল্প প্রধান মোঃ মনোয়ার হোসেন মিয়া বলেন, যন্ত্রাংশ রক্ষানাবেক্ষনের জন্য বিজেএমসি মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে৷ সে অনুযায়ী দৈনিক মজুরী ভিত্তিক ২৮ জন শ্রমিক দিয়ে গতশুক্রবার থেকে এ কাজ শুরু করা হয়েছে৷ মিলের ছাটাইকৃত শ্রমিকরা জানান, রক্ষানাবেক্ষনের কাজ শুরু হওয়ায় পুনরায় তারা নতুন করে বেচে থাকার শ্বপ্ন দেখা শুরু করেছে ৷
তারা মিলের প্রধান ফটকের সামনে দাড়িয়ে প্রতিক্ষার প্রহর গুনছে কখন ঘুরবে উত্পাদনের চাকা৷ কখন বাজবে আবারও মিলের হুউসাল৷ এই মিলের শ্রমিক- কর্মচারীদেরই যাতে পুনরায় নিয়োগ দেয়া হয় এ ব্যাপারে সরকার ও বিজেএমসির কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন তারা ৷



