প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা নেওয়া উচিত- এমকে আনোয়ার

Print This Post Email This Post

নারায়ণগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয়ের কথা উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার বলেছেন, আপনার প্রার্থীর যে অবস্থা হয়েছে, তা থেকেই শিক্ষা নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থী একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করায় নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন যে একটি প্রহসনমুলক ছিলো তা প্রমাণ হয়েছে।

সুশীল ফোরাম আয়োজিত মানবতাবিরোধী বিচারের নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

এমকে আনোয়ার বলেন, সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা বলে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিলো। পরবর্তী সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাদ দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করছে। তারা চিৎকার করে বলছে, বিএনপির সকল কার্যক্রম নাকি এই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে। আমরা পরিষ্কার বলেছি, যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে আমরা নই। পাকিস্তানের ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী ও মন্ত্রিসভায় যারা যুদ্ধাপরাধী আছে তাদের আগে বিচার করা হোক। এই বিচার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হতে হবে।

তিনি বলেন, যে আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা হচ্ছে, সে আইন সম্পর্কে  সারা বিশ্বের বিশেষজ্ঞরা আপত্তি জানিয়েছে। তারা বলেছে, এই আইন সংশোধন করতে হবে। এই বিচারের নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে চাইলে দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না। আমরাও এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।

তিনি বলেন, শেখ মুজিবের সময় যুদ্ধাপরাধ বিচারের জন্য এক লাখ লোককে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। সেখান থেকে সাত’শ লোককে সাজা দেওয়া হয়েছিলো সেই সাত’শর মধ্যে আজকে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের একজনের নামও নেই।

তিনি বলেন, এই সরকার দেশকে আজ এক মহাসংকটে ফেলে দিয়েছে। দেশের অর্থনীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করার অর্থ সরকারের হাতে নেই। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে, তাতেও হচ্ছে না। এখন বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি সরকারকে এই আত্মঘাতী কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিমানবন্দর, ফ্লাইওভারের মতো বড় বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার কারণেই দেশের অর্থনৈতিক এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

এমকে আনোয়ার বলেন, নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে সরকার ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রের জাল ফেলা হয়েছিল, তা প্রকাশ হয়ে গেছে। সরকার সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন না করে সংবিধান লংঘন করেছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিলো হয় এর প্রতিবাদ করা না হয় পদত্যাগ করা।

নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে কেনো মামলা করলেন না। আপনারা বলছেন, সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়া করবেন। একটি পত্রিকায় দেখলাম ৪ ভাগ মানুষ মনে করে আপনারা বোঝাপড়া করতে পারবেন। আর বাকি ৯৬ ভাগ মনে করে কোনো বোঝাপরা করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনের পর কাল দু’জন প্রার্থীই শেখ হাসিনার কাছে হাজির হয়েছেন। দেশের মানুষকে ফাঁদে ফেলতে একটি প্রহসন করেছেন। এতে প্রমাণিত হয়েছে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে না।

আওয়ামী লীগের এক নেতা বিএনপিকে পলায়নপর মনোবৃত্তি থেকে ফিরে আসার আহবান জানিয়েছে- এর জবাবে তিনি বলেন, পলায়নপর মনোবৃত্তি দেখতে হলে একাত্তর সালে যেতে হবে। যখন দেশের সাত কোটি মানুষ দিশেহারা, তখন আপনাদের নেতা গ্রেফতার হয়ে পাকিস্তান চলে গেছেন। আর আপনারা কেউ ভারতে আর কেউ পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আর জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করেছিলেন।

তিনি বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় এসে সাড়ে সাত হাজার চুরি ডাকাতি হত্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। দুই ডজন হত্যা মামলার ফাঁসির আসামিকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে এমকে আনোয়ার বলেন, আপনি নুরুল ইসলামের হত্যাকারীকে মাফ করে দিয়েছেন। আপনার উচিত স্ত্রীর হত্যাকারীদেরকেও ক্ষমা করে দেওয়া।

তিনি বলেন, দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ, প্রশাসনসহ সব ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল। শহীদ জিয়ার ঘোষণার মধ্যে দিয়ে দেশের লাখ লাখ মানুষ যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। আজকে আপনারা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য স্বাধীনতা বিকিয়ে দিতে চাচ্ছেন। এই স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আর একটি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেব।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, দেয়ালের লিখন দেখে বোঝার চেষ্টা করেন। অন্যান্য জায়গায় স্বৈরাচারের যেভাবে পতন হয়েছে তাও দেখুন। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার যে আশা করছেন সে আশার গুড়ে বালি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস ফোরামের চেয়ারম্যান রেজাউল কবির রেজা, যুবদলের যুগ্মসম্পাদক ইউসুফ বিন আবদুল জলিল, প্রফেসর রফিকুল ইসলাম, মঞ্জুর হোসেন ইসা, কামরুজ্জামান সেলিম প্রমুখ।

পাঠকের মন্তব্য

বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:

কীবোর্ড Bijoy      UniJoy      Phonetic      English
নাম: *
ই-মেইল: *
মন্তব্য: