পদ্মা সেতু নির্মাণে নতুন করে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে ওই পদে বসানো হয়েছে।
বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রঞ্জাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।
দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন স্থগিত করার পর গত ৯ অক্টোবর আগের প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলামকে অপসারন করে সরকার।
এদিকে শফিকুল ইসলাম অবশ্য সওজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পেরও প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের জন্য শফিকুল ইসলামের চাকরি নিজ বেতনে সেতু বিভাগে ন্যস্ত করা হলো।
যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুর প্রকল্পের ব্যয় ২০,৫০৭.২০ কোটি টাকা বা ২৯৭২.০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে সরকারের ৪,২৫৭.৬৮ কোটি টাকা বা ৬১৭.০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং প্রকল্প সাহায্য ১৬,২৪৯.৫২ কোটি টাকা বা ২৩৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
পদ্মা সেতু প্রকল্পের আওতায় মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। এছাড়া, রোড ভায়াডাক্ট ৩.৮ কিলোমিটার ও রেল ভায়াডাক্ট ০.৫৩২ কিলোমিটারসহ মোট ১০.৪৮২ কিলোমিটার, ১৪ কিলোমিটার নদী শাসন এবং ১২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে।
যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু নির্মাণে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহ ইতোমধ্যে ১৬,২৪৯.৫২ কোটি টাকা বা ২৩৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার চুক্তি করে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ১২০০ মি. ডলার, এডিবি’র ৬১৫ মি. ডলার, জাইকার ৪০০ মি. ডলার এবং আইডিবির ১৪০ মি. ডলার। তবে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর বিশ্বব্যাংকের মতো অন্যরাও ঋণ দেওয়া স্থগিত করে।
এ সেতু বাস্তবায়িত হলে জাতীয় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ১.২% বৃদ্ধি এবং প্রতি বছর ০.৮৪% হারে দারিদ্র নিরসনের মাধ্যমে দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সরকারের একটি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে।



