প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে দেশ এগিয়ে যায় আর বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
রোববার বিকালে নাটোর শহরে এক স্মরণসভায় তিনি বলেন,
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মানুষ শান্তিতে থাকে এবং বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়।
বিএনপি জাতিকে শুধু লাশ উপহার দিয়েছে। ক্ষমতায় থেকে তারা নাটোরের মমতাজ, বনপাড়ার ডাক্তার আয়নাল হকসহ আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী নির্মমভাবে হত্যা করেছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালোদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, ছেলেকে কী শিক্ষা দিয়েছেন? ছেলের দুর্নীতির সাক্ষ্য দিতে এফবিআইসহ বিদেশিরা আসছেন এখানে। এর চেয়ে আর লজ্জার কী থাকতে পারে!
খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) এক কর্মকর্তার ঢাকায় এসে সাক্ষ্য দেওয়া প্রসঙ্গে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সদ্যপ্রয়াত সাধারণ সম্পাদক হানিফ আলী শেখের স্মরণে জেলা শহরের কানাইখালি মাঠে এক স্মরণসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
শুরুতে তিনি হানিফ আলীর আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
আমরা যখনই ক্ষমতায় এসেছি, জনগণ কিছু পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ না খেয়ে মারা যায়নি। এখন আর মঙ্গা বলে কিছু নেই।
আমরা আগামীতে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই সরবরাহ করব। অর্থের কারণে যেন কেউ লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত না হয় সেজন্য শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট গঠন করব।
কৃষিতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, এর আগে আমরা ১০ টাকা কেজি চাল খাইয়েছি। বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই চালের দাম ৪০ টাকা কেজি করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার করেছে ৪৫ টাকা। এখন দেশের মানুষ ২২ থেকে ২৩ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে পারছে।
আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে তথ্য সেবা চালু করা হয়েছে। খুব শিগগিরই দেশের সাড়ে আট হাজার ডাকঘরে তথ্য সেবা চালু করা হবে।
নাটোরসহ দেশের সব জেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস চালু করারও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থেকে এক মেগাওয়াট বিদ্যুতও উৎপাদন করতে পারেনি। শুধু খাম্বা দিয়েছিল। আর এই খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। আমরা ইতিমধ্যে অতিরিক্ত ৭’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি।
স্মরণসভায় আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাবেক স্বরাষ্টমন্ত্রী মোহম্মদ নাসিম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, স্থানীয় সাংসদ আব্দুল কুদ্দুস ও জুনাইদ আহমেদ প্রমুখ।
স্মরণসভায় যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী ৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।



