মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সমর নায়ক এম হামিদুল্লাহ খান মারা গেছেন। বিএনপির এই নেতার বয়স হয়েছিলো ৭৪ বছর।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে হামিদুল্লাহ খানের মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, হামিদুল্লাহ খান উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়ায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি মারা যান।
বীর প্রতীক খেতাবধারী বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে গেছেন। জনকণ্ঠ সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান মাসুদ প্রয়াত হামিদুল্লাহর ছোট ভাই। বিমানমন্ত্রী ফারুক খান প্রয়াতের ভগ্নিপতি।
হামিদুল্লাহর মরদেহ বিকালে হাসপাতাল থেকে ঢাকা সেনানিবাসের ৩ নম্বর সড়কে তার বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে যান বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাদেক হোসেন খোকা, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকতউল্লাহ বুলু, মোসাদ্দেক আলী, আব্দুস সালাম প্রমুখ।
শনিবার সকাল ১০টায় সেনানিবাসের আল্লাহু জামে মসজিদে প্রয়াতের প্রথম জানাজা হবে। শুক্রবার রাতে জানাজার একটি কথা প্রথমে জানানো হলেও পরে এই সময় পরিবর্তন করা হয়েছে।
সকাল সাড়ে ১১টায় নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে হামিদুল্লাহর জানাজা হবে। এরপর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার আরেকটি জানাজা হবে বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।
হামিদুল্লাহ খান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল আবু তাহের আহত হওয়ার পর ওই সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন হামিদুল্লাহ খান।
বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক হামিদুল্লাহ ১৯৭৯, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ (১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন) সালে তিন দফায় পৈত্রিক এলাকা মুন্সীগঞ্জ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঢাকার একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছিলেন তিনি।
হামিদুল্লাহর জন্ম মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মেদিনীমণ্ডল গ্রামে ১৯৩৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। মুহাম্মদ দবিরউদ্দিন খান ও জসিমুন্নেসা খানের নয় সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। বাবার চাকরির কারণে তার পড়াশোনা হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে।
১৯৫৯ সালে ঢাকার জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে একাত্তর ডিগ্রি নিয়ে তৎকালীন পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে যোগ দেন হামিদুল্লাহ খান। বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে এ কে খন্দকারের (বর্তমানে পরিকল্পনামন্ত্রী) মতো হামিদুল্লাহও একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে এ কে খন্দকারের পাশাপাশি তিনিও ছিলেন।
সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগ দেন হামিদুল্লাহ। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত টানা বিএনপিতে ছিলেন তিনি। তবে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়ার পর আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। তবে এক বছরের মাথায় পুনরায় আগের দলে ফেরেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত ওই দলেই ছিলেন।
কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন হামিদুল্লাহ। বিভিন্ন সময়ে জনতা ব্যাংক, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যানের পদে ছিলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখালেখিও রয়েছে হামিদুল্লাহর। তার প্রকাশিত দুটি বই হচ্ছে- একাত্তরে উত্তর রণাঙ্গন ও বাঙালির স্বাধীনতার পটভূমি। নিজ এলাকা মুন্সীগঞ্জের মেদিনীমণ্ডলে একটি মহিলা কলেজও প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।



