বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ পর্যন্ত স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি এবং নয়াদিল্লির দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার রাতে ত্রিপুরার আগরতায় ভারতের উপ রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ হামিদ আনসারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি এ আহ্বান জানান।
ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম সমাবর্তনে যোগ দিতে বুধবার দুপুরে আগরতলা পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার এই সমাবর্তনে শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি দেবে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আসাম রাইফেলস গ্রাউন্ডে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনাতেও যোগ দেনে তিনি।
বুধবার দুপুরে আগরতলা পৌঁছে শেখ হাসিনা কফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) আয়োজিত এক যৌথ ব্যবসায়ী সম্মেলনে যোগ দেন। পরে ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী হামিদ আনসারিকে বলেন, প্রতিবেশী দুই দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন ও ভারতের দেওয়া প্রতিশ্র“তিগুলো পূরণ হওয়া প্রয়োজন।
২০১০ এর জানুয়ারিতে শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে দুই প্রধানমন্ত্রীর যৌথ যোষণার বাস্তবায়ন পর্যালোচনার জন্য ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং গত বছর সেপ্টেম্বরে ঢাকায় আসেন। তার সফরে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন চুক্তি ও ট্রানজিটের সম্মতিপত্র বিনিময়সহ কয়েকটি বিষয়ে চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ মুহূর্তে আটকে যায়।
এ অঞ্চলের দারিদ্র্য বিমোচনে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতীয় উপ রাষ্ট্রপতি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়।
অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, ভারতের মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী কপিল সিবাল, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক এ করিম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. ওয়াহিদ উজ জামান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রজ্ঞা ভবনে ব্যবসায়ী সম্মেলনে যোগ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতার বিশাল ক্ষেত্র বিদ্যমান। আর সত্যিকার সহযোগিতা তখনই সম্ভব, যখন রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে কাজে লাগাতে দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা এগিয়ে আসবেন, যাতে দুই দেশের মানুষই উপকৃত হয়।
মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা সীমান্তের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান করতে পেরেছি। কিছু অচিহ্নিত সীমানা রয়েছে, যার বিষয়ে শিগগিরই ফয়সালা হয়ে যাবে। অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে বিরোধেরও নিস্পত্তি হয়ে যাবে, এজন্য আমাদের আরো উদার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
ব্যবসা-বাণিজ্যে অশুল্ক বাধা দূর করার পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের স্থলবন্দর এবং স্থলশুল্ক বন্দরের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য ভৌত অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির জন্য আমাদের দুই দেশের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে সাম্প্রতিককালে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিশেষ করে ২০১০ সালে আমার দিল্লি সফর এবং গত বছর সেপ্টেম্বরে ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় ১৬ লাখ বাংলাদেশিকে ত্রিপুরায় আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টিও বক্তৃতায় উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, আমাদের অনেক মুক্তিযোদ্ধা চিরদিনের জন্য শায়িত আছেন এ ত্রিপুরার মাটিতে।”
বাংলাদেশের সঙ্গে ৮৫৬ কিলোমিটার বিস্তৃত সীমান্তের ভারতীয় রাজ্য ত্রিপুরা শেখ হাসিনার এটিই প্রথম সফর।
২০১০ সালে এক সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মনি রাজ্যটির দক্ষিণাঞ্চলীয় চোট্টাখোলায় স্বাধীনতা আন্দোলন স্মৃতি পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ওই পার্কে বঙ্গবন্ধুর একটি ভাষ্কর্য স্থাপন করা হবে।



