নরসিংদীর উপ-নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু

Print This Post Email This Post

নরসিংদী পৌরসভার মেয়র পদে উপ-নির্বাচনের ভোট গ্রহণ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় শুরু হয়েছে। বিরতিহীনভাবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ ভোট গ্রহণ চলবে।

এদিকে, সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট শুরু হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোথাও কোনও গোলমালের খবর পাওয়া যায়নি।

শুরুর দিকে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি খুব একটা দেখা না গেলেও আস্তে আস্তে তাদের সংখ্যা বাড়ছে।

নির্বাচনে ৩১টি ভোট কেন্দ্রে ১৯৮টি ভোট কক্ষে ৭৭ হাজার ৫৮১ জন ভোটার ইভিএম’র মাধ্যমে ভোট দিয়ে তাদের মেয়র নির্বাচন করবে। যার মধ্যে ৩৮ হাজার ২৬৫ জন পুরুষ ও ৩৯ হজার ৩১৬ জন মহিলা ভোটার রয়েছে।

১৯৭২ সালে নরসিংদী পৌরসভা গঠিত হয়। ১৯৯৬ সালে ২৬ আগস্ট এটি প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হয়। এ পৌরসভার লোক সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার। আয়তন ১০.৩২ বর্গ কিলোমিটার। মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৯টি। সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড ৩টি।

বহুল আলোচিত নরসিংদী পৌরসভার মেয়র পদের এ উপ-নির্বাচন উপলক্ষে দেশবাসীর চোখ এখন নরসিংদীতে। নির্বাচন কমিশনও দেশের আর সব পৌরসভার নির্বাচন থেকে এ উপ-নির্বাচনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আর এ গুরুত্বের কারণও সেই লোকমান। যিনি নির্মমভাবে খুন হওয়ায় প্রয়োজন হলো এ উপ-নির্বাচনের।

ইতিমধ্যে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ ও মোবাইলে ফলাফল ঘোষণাসহ নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে শহরজুড়ে ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। শহরে প্রবেশ এবং বাইরের ৪টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে র‌্যাবের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি র‌্যাব, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শহরের অলি গলিসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মহড়া চালিয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও প্রশাসন দ্বিধাবিভক্তি হয়ে পড়েছে।

এই নির্বাচনে মূল লড়াইয়ে আছেন আওয়ামী লীগের দুই শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। তারা হলেন প্রয়াত মেয়র লোকমান হোসেনের ছোট ভাই জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও লোকমান হত্যা মামলার বাদী কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল (কাপ-পিরিচ) এবং লোকমান হত্যা মামলার আসামি নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মোন্তাজ উদ্দিন ভূইয়া (আনারস)।

ঢাকায় অবস্থান করে নির্বাচন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে নির্বাচন কমিশন। ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ও ৪শ গজের মধ্যে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বহিরাগত রাজনৈতিক ও যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) পদ্ধতিতে এই নির্বাচন হওয়ার কারণে নির্বাচন বয়কট করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।

কাউন্সিলর প্রার্থী না থাকায় তুলনামূলকভাবে ভোটার উপস্থিতি কম হবে মনে করছে স্থানীয়রা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য চার প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগের হাজী আফজাল হোসেন মোল্লা, আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক সংসদ সদস্য শামসুদ্দিন আহমেদ, এছাকের ছেলে মোসাব্বির আহমেদ নাসির (মঙ্গলবার ভোট ময়দান থেকে সরে দাঁড়ান) এবং জাকের পার্টির আরিফুল হক।

ভোটের ফ্যাক্টর বিএনপি
বিএনপি সমর্থিত ভোটাররাই জয়-পরাজয় নির্ধারণে ফ্যাক্টর হয়ে আছেন। আওয়ামী লীগের মূল দুই প্রার্থীর মধ্যে যিনি বিএনপির ভোটারদের টানতে পারবেন, তিনিই জয়ী হবেন। এ ক্ষেত্রে জেলা বিএনপি সভাপতি খায়রুল কবির খোকন ও উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুর এলাহীর দিকে তাকিয়ে আছেন কামরুজ্জামান কামরুল এবং মোন্তাজ উদ্দিন ভূঁইয়া।

পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা
৩১টি ভোট কেন্দ্রে প্রতিটি এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিতে নির্বাচনী মাঠে রয়েছে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তা ছাড়াও র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার।

শহরজুড়ে ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষে ১৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের ১৬টি মোবাইল টিম, র‌্যাব’র ৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে।

তাছাড়া র‌্যাব’র তিন শতাধিক সদস্য, পুলিশ ও আনসারের প্রায় ১৩০০ সদস্য ভোটের দিন সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। নরসিংদীর জেলা প্রশাসক মো. ওবায়দুল আজম, পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন, র‌্যাব-১১-এর মেজর সারোয়ার আহমেদ ও রিটার্নিং অফিসার আবদুল অদুদ সমন্বয়ে শহরে র‌্যাব সদস্যরা বুধবার শহরের ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে ও শহরের এলাকায় নিয়মিত মহড়া প্রদর্শন করেছেন।

আইন-শৃঙ্খলার বিষয়ে নরসিংদীর পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদউদ্দিন বলেন, ‘নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন গ্রহণের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি আসাদুজ্জামান জানান, ‘সরকারের শীর্ষ মহল থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নরসিংদীতে শতভাগ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ন্যায় এখানেও অনুরূপ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কাজ করবে প্রশাসন।’ এটা গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতিশ্রুতি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষে ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত দুই ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও নুরুজ্জামান নরসিংদীতে অবস্থান করছেন বলে তিনি জানান।

সব কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ

নরসিংদী পৌরসভার মেয়র পদে উপ-নির্বাচনে সব কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ।

রিটার্নিং অফিসার আবদুল অদুদ জানিয়েছেন, সব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হলেও নির্বাচন শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য

বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:

কীবোর্ড Bijoy      UniJoy      Phonetic      English
নাম: *
ই-মেইল: *
মন্তব্য: