রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দিয়েছেন দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার কোনও অপচেষ্টাই বরদাশত করা হবে না।
বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সম্প্রতি গণতান্ত্রিক সরকারের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার একটি ঘৃণ্য প্রচেষ্টা দেশের সেনাবাহিনী নস্যাৎ করে দিয়েছে। এজন্য সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যরা দেশের যে কোনও সঙ্কটকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এবারেও তারা তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে।
আগামীতেও তারা এ ধরণের ষড়যন্ত্র রুখে দেবে।
তিনি বলেন, অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা ও আত্মত্যাগের পর দেশে পূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বর্তমানে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার কোনও অপচেষ্টা আমাদের কারও কাছেই কাম্য নয় এবং এ ধরনের অপচেষ্টা কখনই বরদাশত করা হবে না।
তবে একই সঙ্গে এ ধরনের ঘৃণ্য অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সদা সতর্ক ও সজাগ থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
এর আগে তিনি বিরোধী দলকে সংসদে এসে তাদের প্রস্তাব, অভিযোগ ও পরামর্শ তুলে ধরার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমি বিরোধী দলকে বলবো আপনাদের সকল প্রস্তাব, সুপারিশ ও অভিযোগ সংসদের ফ্লোরে এসে বলুন। এত করে গণতন্ত্রই সমৃদ্ধ হবে।
তিনি বলেন, এটা দুঃখজনক যে বিরোধীদল এখন পর্যন্ত সংসদীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের ব্যাপারে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রদর্শন করছে না।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে এ যাবৎ আটটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলার বিচার কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। আশা করা যায় অনতিবিলম্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন হবে।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, মনে রাখতে হবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ, এতে লাভ বা লোকসান দুটোই হতে পারে। এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীদেরকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
এর আগে রাষ্ট্রপতি পুঁজিবাজার সংক্রান্ত সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন নিয়ে সংলাপ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনারা জানেন, নির্বাচন কমিশন নিয়োগের ব্যাপারে আলোচনার জন্য আমি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছি এবং তাদের মতামত নিয়েছি।পরামর্শের ভিত্তিতে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনই ছিল আমার এ উদ্যোগের লক্ষ্য। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত নেওয়া হয়েছে।যারা সংলাপে যোগ দিয়েছেন তাদের সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের মূল্যবান পরামর্শ শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে সহায়ক হবে।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ে তিনি বলেন, গত সরকারের আমলে জঙ্গিবাদের ভয়াবহ বিস্তারে এদেশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। গত ৩ বছর ধরে জনসাধারণ জাতীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানাদি নির্বিঘ্নে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপভোগ করছে। এ সময়ে ১৩টি আইন/বিধি প্রণয়ন বা সংশোধন করা হয়েছে। নাগরিকত্ব আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারির প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, পাসপোর্ট আইন, ২০১১ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ(সংশোধন)আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন আছে।
পদ্মা সেতুর নির্মাণ নিয়ে জিল্লুর রহমান বলেন,বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মাওয়া-জাজিরা অবস্থানে নির্মিতব্য বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পদ্মা সেতু নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে সেতুর ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য ৪টি পুনর্বাসন এলাকার মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে।
এছাড়া রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন দিকে সরকারের সাফল্যের চিত্র ফুটে ওঠে।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের পরে স্পিকার আগামী রোববার বিকেল সোয়া চারটা পর্যন্ত সংসদের বৈঠক মুলতবির ঘোষণা দেন।



