জাতীয় পার্টি’র টিপাইমুখ ও তিস্তা লংমার্চের পরে এবার আসছে ফেনী নদী অভিমুখে লংমার্চ। লক্ষ্য বিএনপির ঘাঁটি বলে পরিচিত ফেনীতে ভাগ বসানো।
ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ অথবা মার্চের প্রথম সপ্তাহে এ লংমার্চ হতে পারে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মওলা চৌধুরী।
জাপার এই ভাইস চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, পার্টি’র চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ফেনী নদী অভিমুখে লংমার্চ’র নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছেন। শিগগিরই প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে সময়সূচি চুড়ান্ত করা হবে।
তবে ৪ মার্চ তারিখে এ লংমার্চ হতে পারে বলে দাবি করেছেন জাতীয় পার্টি’র চেয়ারম্যানের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক উপদেষ্টা রিন্টু আনোয়ার।
জাতীয় পার্টি’র একাধিক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ফেনী নদীর পানি চুক্তির আলোচনা শুরু হওয়াতে ফুঁসে উঠেছেন ফেনীবাসী। এ অঞ্চলের লোকজন এ ইস্যুতে বিএনপিকে পাশে প্রত্যাশা করেছিলেন।
কিন্তু বিএনপি সে প্রত্যাশা পুরণে ব্যর্থ হওয়ায় জনগণ ক্ষুব্ধ। আর জনগণের এ ক্ষোভকে কাজে লাগাতে চায় জাপা।
জাতীয় পার্টি’র চেয়ারম্যানের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক উপদেষ্টা ফেনীর বাসিন্দা রিন্টু আনোয়ার বলেন, ফেনী নদীর পানি ভারত শত শত পাম্পের মাধ্যমে অবৈধভাবে তুলে নিচ্ছে।
ভারত এখন আবার বায়না ধরেছে, তিস্তা নদীর পানি চুক্তি করতে হলে তাদের ফেনী নদীর পানি দিতে হবে।
তিস্তা নদী আন্তর্জাতিক নদী, এ নদী পানির দাবি আমাদের যৌক্তিক দাবি। অন্যদিকে ফেনী নদী আমাদের দেশীয় নদী। এই নদী সীমান্ত ঘেঁষে চলেছে। এর কোনো অংশ ভারতে নেই বলে দাবি করেন তিনি।
জাতীয় পার্টি’র ভাইস চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মওলা চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশের প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল বলে যারা দাবি করেন তারা মুলত ক্ষমতার রাজনীতি করেন। এদেশের মানুষের কথা তারা ভাবেন না।
এ অবস্থায় দেশপ্রেমিক এরশাদ বসে থাকতে পারেন না। তিনি এগিয়ে এসেছেন জনগণের পাশে। জনতার প্রতিবাদের আওয়াজ না উঠলে এ নদীর পানি ভারতকে দিয়ে দেওয়া হতে পারে। জনগণের দাবির প্রতি সম্মান দেখাতেই তাই জাপা’র এ লংমার্চ।
তিনি আরও বলেন, ফেনী নদীর পানি চুক্তির প্রসঙ্গ সামনে চলে আসার পর থেকেই ফেনী বাসি আন্দোলন চালিয়ে আসছে। কিন্তু কোন রাজনৈতিক দল সাড়া দেয়নি। জাপার এ আন্দোলন ফেনীবাসিকে উজ্জীবীত করবে।
উল্লেখ্য, ফেনীবাসীর দাবি, খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙা ও পানছড়ি উপজেলার মধ্যবর্তী ভগবানটিলা নামের একটি পাহাড় থেকেই ফেনী নদীর উৎপত্তি।
পাহাড়ের ছড়া থেকে উৎপত্তির পরপরই নদীটি ভারতের ইজেরা গ্রামের কোল ঘেঁষে দুই দেশের সীমান্ত ঘেঁষে বেশ কিছুটা অগ্রসর হয়ে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার গড়েরহাট ইউনিয়ন আমলীঘাট দিয়ে বাংলাদেশের মূল ভুখণ্ডে প্রবেশ করে ছাগলনাইয়া, ফেনী সদর, সোনাগাজী উপজেলার উপর দিয়ে ১১৬ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে।
ফেনী পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, শুধুমাত্র মহুরি সেচ প্রকল্পের আওতায় ফেনী নদীর পানি ব্যবহার করে বোরো চাষ হচ্ছে ২৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমি। যা এ প্রকল্প চালুর পূর্বে চাষের আওতায় ছিল না। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১৯৮৭-৮৮ সালে ৪১৫৯ দশমিক ২৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়।
এছাড়া নদীর দীর্ঘ চলার পথে অনেকেই এর পানি ব্যবহার করে বোরো চাষ করছেন বলেও তিনি দাবি করেন।



