পুলিশের নিষেধাজ্ঞায় বিএনপির গণমিছিল কর্মসূচি একদিন পেছানোর পর মহানগর আওয়ামী লীগও একই দিনে সমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়ায় দলটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, পরিবেশ বিবেচনা করেই মহানগর শাখা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রোববার ১৪ দলের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা নিয়েছে। স্বাধীন সংগঠন হিসাবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ স্থানীয় পরিবেশ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে গত ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামে এক জনসভা থেকে ২৯ জানুয়ারি সারাদেশে গণমিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। কিন্তু আওয়ামী লীগ একই দিনে রাজধানীতে জনসভা করার ঘোষণা দিলে রোববার সব ধরনের সভা সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
এই পরিস্থিতিতে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ মহানগরগুলোর গণমিছিল কর্মসূচি একদিন পিছিয়ে দেয় বিএনপি। এরপর রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন, সোমবার বিকাল ৩টায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে তারা সমাবেশ করবেন।
বিরোধীদল দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে- এমন অভিযোগ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ বলেন, বিরোধীদল রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা করছে। আমরা যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্ক অবস্থায় আছি।
ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে ১৪ দলের এই বৈঠক হয়।
১৪ দলের মানববন্ধন
সৈয়দ আশরাফ জানান, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায মানববন্ধন করবে ১৪ দল।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতেই আমরা ঢাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত। মানববন্ধন করবো।
একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতের পাঁচ নেতা এবং বিএনপির দুই জনের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। দুটি দলই এ ট্রাইব্যুনালের বিরোধিতা করে আসছে।
বৈঠকে প্রসঙ্গে আশরাফ বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা বৈঠকে আলোচনা করেছি। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে, ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ গড়তে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ১৪ দল গঠিত হয়। এই লক্ষ্য অর্জনে ১৪ দল এখনো কাজ করে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতে কিছু সেনা কর্মকর্তার অভ্যুত্থানের চেষ্টার তথ্য উদ্ঘাটন করায় সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আশরাফ বলেন,সামরিক বাহিনীর কিছু ব্যক্তির উচ্ছৃঙ্খল আচরণ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার জন্য ১৪ দলের পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, শিরিন আখতার, ন্যাপের এনামুল হক, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের অসীত বরণ রায়, গণতন্ত্রী পার্টির নুরুল রহমান সেলিমসহ ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।



