দেশের অর্থনীতির সঙ্কট গণমাধ্যম যা বলছে তা সঠিক নয়

Print This Post Email This Post

দেশের অর্থনীতির সঙ্কটের যে কথা গণমাধ্যমে উঠে আসছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

তার ভাষায়, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে খরা, সরকারের ব্যাংক ঋণের বিষয়গুলো তুলে ধরে যে সব অর্থনৈতিক সঙ্কটের কথা বলা হচ্ছে, তা সংবাদ মাধ্যম ও সুশীল সমাজের সৃষ্টি।

বুধবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র এক মতবিনিময় সভায় মুহিত বলেছেন, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সঙ্কট সবসময়ই রয়েছে। তবে তারা যে রকম বলছেন, বাস্তবে সে রকম কোনো সঙ্কট নেই।

এরপরই তিনি আবার বলেন, আমরা তিন বছর ধরে একটা মহামন্দার মধ্যে রয়েছি। তাই তিন বছর আগে কে কী করেছি, আল্লার ওয়াস্তে তার সঙ্গে তুলনা করবেন না। কারণ, আমরা একটা সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সভায় ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে টাকা না পাওয়া, উচ্চ সুদ হার, ডলারের দাম বৃদ্ধি, সরকারের নীতি নির্ধারণী সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

বৈদেশিক সাহায্য ঠিকমতো ব্যবহার না হওয়ার জন্যও সরকারকে দায়ী করেন সভার বক্তারা। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সঠিকভাবে আয়ের পরামর্শও দেন তারা। ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় সরকারের ভর্তুকি অপ্রয়োজনীয় বলেও মত প্রকাশ করেন অনেকে। সবার অভিযোগ ও মত শুনে অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানান।

২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সালের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ ও ফেরতের পরিসংখ্যান তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রয়োজনে ঋণ নিচ্ছে, আবার তা ফেরতও দিচ্ছে। আপনারা ঋণের পরিসংখ্যান লেখেন, ফেরতটা কেন লেখেন না? প্রতিদিনের পরিবর্তন নিয়ে সঙ্কট সৃষ্টি আর বড় বড় বক্তৃতা করা ঠিক না।

অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক পরিসংখ্যান বই থেকে সাংবাদিকরা তথ্য নিয়ে থাকেন।

এখন থেকে এটা ছয় মাস পর পর বের করব। তাহলে দেখা যাবে, তারা (সাংবাদিক) কী করেন? বলেন মুহিত।

বৈদেশিক সাহায্যের সঠিক ব্যবহার না হওয়ার দায় নিতে নারাজ অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা ব্যবহার করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়। আমার কাজ সাহায্য এনে দেওয়া, তা আমি করেছি। সেটা তারা ব্যবহার করতে পারেনি, সেটা তাদের ব্যর্থতা।

সরকারের নীতি নির্ধারণে কোনো সমস্যা নেই বলেও তিনি দাবি করেন। বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন বিদ্যুতে সিস্টেম লস ৩০ শতাংশ। এই মুহূর্তে রেন্টাল খাত থেকে ২৬/২৭ শতাংশ বিদ্যুৎ আসছে। তবে এটা কমে আসবে। ২০১৫ সাল নাগাদ এটা ৮/৯ শতাংশ হবে।

এফবিসিসিআই ভবনের এই মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি ও অর্থনীতিবিদরা বক্তব্য দেন।

পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জাহিদ এ সাত্তার সরকারকে আয়ের জন্য অভ্যন্তরীণ উৎসের প্রতি নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন।

অর্থনীতির অধ্যাপক আনু মুহাম্মদও একই পরামর্শ দিয়ে বলেন, আমরা এখন ঋণগ্রস্ততার দুষ্টচক্রে পড়ে যাচ্ছি। এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারছি না। বর্তমান সঙ্কট সমাধানে আইএমএফের ঋণ নিতে গেলে ভবিষ্যতে তা আরো বড় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভর্তুকির বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোতেও তাই হচ্ছে।

পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য হাফিজ আহমেদ মজুমদার বলেন, ব্যাংকিং খাত বর্তমানে দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করছে না।

এফবিসিসিআই’র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু ব্যাংকের দিকে অভিযোগ তুলে বলেন, ব্যাংকের ঋণ নিয়মিত শোধ করার পরও এগুলো রিনিউ করা হয় না। বরং ব্যবসায়ীদের নানাভাবে ঘোরানো হয়। ব্যাংকে ঠিকভাবে টাকা পাওয়া যায় না। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়ছেন।

পাঠকের মন্তব্য

বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:

কীবোর্ড Bijoy      UniJoy      Phonetic      English
নাম: *
ই-মেইল: *
মন্তব্য: