শিক্ষকের কারনে মাধ্যমিক বিদ্যালয় অচল হয়ে পড়েছে

Print This Post Email This Post

শেখ শফিউল আলম লুলু ঝিনাইদহ থেকে:
ঝিনাইদহের গোপালপুর ঐহিত্যবাহী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম দূর্ণতির আখড়ায় পরিণত হয়ে পড়েছে৷ গত ০১-১০-০৯ সালে ঐ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক চিত্র রঞ্জন পাল প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন এবং তিনি ২ বছরে বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে ৪ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯শ ৬১ টাকা আত্মসাত করেন৷

এই আত্ম সাতের ঘটনা তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষ করে তিনি দোষী প্রমানিত হলে এই মোট অংকের অর্থ আত্মসাতের দায়ে বিদ্যালয় কতৃপক্ষ তাকে বিদ্যালয় থেকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেন৷

দীর্ঘদিন বরখাস্তর পর তাকে কতৃপক্ষ মানবিক কারনে আত্মসাত্‍কৃত অর্থ ফেরত দেবার শর্তে তাকে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে নেন৷ এবং ২৮-১২-১১ তারিখে বিদ্যালয়ে যোগদানের পর প্রধান শিক্ষক আত্মসাত কৃত মোটা অংকের টাকা ফেরত না দেবার জন্য আবারও নানা তালবাহানা শুরু করেন৷

এবং গত ১২-০১-১২ তারিখে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি মেয়াদ শেষ হয়ে যায়৷ নিয়ম তান্ত্রিক ভাবে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল বারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন এবং একটি নিয়মিত কমিটির সদস্য নির্বাচিত করে দেন৷ এবং নিয়মিত কমিটির সভাপতি নির্বাচনের জন্য কোন প্রক্রিয়া গ্রহন না করে প্রধান শিক্ষক চিত্র বাবু ঘুরাতে থাকে এক পর্যায়ে স্থানীয় এমপির পরামর্শে তিনি কমিটির সভাপতি নির্বাচনের দিন ধার্য করেন এবং গত ১২ ডিসেম্বও ১০ ভোটারের মধ্যে ৭ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন ২ নং জামাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম৷

এবং এই নিয়মিত কমিটি অনুমোদনের জন্য বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল কাদের কে দায়িত্ব প্রদান করেন প্রধান শিক্ষক৷ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি বিদ্যালয় কতৃপক্ষের নিকট থেকে কোন প্রকার ছুটি গ্রহন না করেই গত ১৩-১২-১১ তারিখ থেকে অধ্যাবধি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন৷ যা গত ডিসেম্বর মাসে উপজেলা আইন শৃংখলা মিটিং উপস্থাপন হয়৷

এবং তিনি এই নিয়মিত কমিটি যাতে বোর্ড কতৃপক্ষ অনুমতি না দেন সে জন্য বোর্ড কতৃপক্ষের নিকট লিখিত মিথ্যা অভিযোগ করেন যে নিয়ম বহিরভুত ভাবে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে৷ এবং বিদ্যালয়ে না এসে তিনি দিনের পর দিন শিক্ষা বোর্ডে ধর্ণ দিয়েছেন যাতে কোন ভাবেই কমিটির অনুমোদন না হয় সে অপচ্ষ্টো অব্যাহত রেখেছে বলে কমিটির সদগস্যরা অভিযোগ করেন৷

ফলে এই কমিটি এখনও অনুমতি হয়নি৷ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড যশোর এই ঘটনা তদন্তের জন্য জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট দায়িত্ব প্রদান করেছেন৷ এদিকে দিনের পর দিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিৰক অনুপস্থিত এবং কমিটির কোন কার্যক্রম না থাকার ফলে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে৷

প্রধান শিক্ষক গত ডিসেম্বর মাসের সরকারী বেতন ভাতার অংশ উত্তোলনের কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি৷ এদিকে শিক্ষক কর্মচারীররা বেতন ভাতা না পেয়ে তাঁরা মানবেতন জীবন যাপন করছে৷ এই অচল অবস্থা থেকে পরিত্রানের জন্য তাঁরা উপজেলা নির্বাহী  কর্মকর্তা আনজুমান আরা এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল বারীর নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন৷

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনজুমান আরার সাথে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে  জানান আমারা সুয়োমাটা হিসাবে বেতন প্রদান করতে পারি তবে এ ব্যাপারে অচিরেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷

পাঠকের মন্তব্য

বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:

কীবোর্ড Bijoy      UniJoy      Phonetic      English
নাম: *
ই-মেইল: *
মন্তব্য: