প্রবীণ সাংবাদিক ও সাহিত্যিক ফয়েজ আহমদ মারা গেছেন। ৮৪ বছর বয়সী এই সংগঠক দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন।
ফয়েজ আহমদের ব্যক্তিগত সহকারী আতিকুর রহমান সোহেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, অসুস্থ বোধ করায় সোমবার ভোরে তার চাচাকে বারডেম হাসপাতালে নেওয়া হয়। ৫টার দিকে চিকিৎসকরা জানান, তিনি আর নেই।
জীবনে বিচিত্র অভিজ্ঞতায় পূর্ণ এই মানুষটি মৃত্যুর আগেই তার চোখ সন্ধানীতে এবং দেহ বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজকে দান করে গেছেন।
১৯২৮ সালের ২ মে মুন্সীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন ফয়েজ আহমদ। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান সম্পাদক ফয়েজের হাত ধরেই পিকিং রেডিওতে (বর্তমান বেইজিং রেডিও) বাংলা ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচার চালু হয়।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন ফয়েজ আহমদ।স্বাধিকার আন্দোলন এবং একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল তার।
খ্যাতিমান এই শিশু সাহিত্যিকের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। সাহিত্যে অবদানের জন্য একুশে পদক, বাংলা একাডেমী ও শিশু একাডেমী পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন।
দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
সকাল ৯টার পর এই শিল্পানুরাগীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ধানমন্ডিতে তার প্রতিষ্ঠিত শিল্পাঙ্গন গ্যালারিতে।
আতিকুর রহমান সোহেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এরপর ফয়েজ আহমদের কফিন নিয়ে যাওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে। সেখান থেকে বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এবং তারপর দুপুর ১টার দিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।



