আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিরোধী দলের নেতা কোনো দিন মাঠে না গেলেও সেদিন এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনাল খেলার দিন কেন গিয়েছিলেন? হঠাৎ করে তিনি ক্রিকেট প্রেমীই বা হয়ে গেলেন কেন? তিনি যদি মাঠে না যেতেন তাহলে…।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় দেওয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এশিয়া কাপে আমরা মাত্র দু’রানে পরাজিত হয়েছি। কাদের উৎসাহ দিতে তিনি মাঠে গিয়েছিলেন? যিনি পাকিস্তানের আইএসআইয়ের টাকা খান, তিনি যদি মাঠে না যেতেন তাহলে! এটা অবশ্য আমি বলি না। দেশের সর্বত্র হাটে-মাঠে-ঘাটে একই আলোচনা চলছে। আমার বাসার কাজের মেয়েটি ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিল। সেখানেও সে এ কথা শুনে এসে আমাকে বলেছে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আরো বলেন, পরাজিত শক্তির দোসর ও দালালরা আর কোনদিন যাতে ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে- সেজন্য সজাগ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, যারা পরাজিত শক্তির পদেলেহন করে, উৎকোচ খায়- অতীতে তাদের হাতে ক্ষমতা ছিল বলেই দেশ এগোতে পারেনি। পরাজিত শক্তির দালালদের দেশ ও জনগণের প্রতি কোন দরদ থাকবে না- এটাই স্বাভাবিক।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অবশ্যই শেষ হবে, রায়ও কার্যকর হবে। এ বিচার একটি চলমান প্রক্রিয়া। কেননা অনেক যুদ্ধাপরাধীই প্রবাসে পালিয়ে আছে। এদেরও খুঁজে বের করে প্রয়োজনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিচারের কাজ করা হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা এসেছে। প্রকৃত ইতিহাস কখনোই মুছে ফেলা যায় না। সত্যকেও ধামচাপা দেওয়া যায় না বলেই আজ সারাবিশ্বের মানুষের কাছে বাঙালি ও বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম ও বীরত্বের সঠিক ইতিহাস ফিরে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশের মানুষ সঠিক ইতিহাস জানতে পেরেছে বলেই তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য এত সোচ্চার। অথচ বিরোধী দলের নেতা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্যই উঠেপড়ে লেগেছেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীল সদস্য সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নূহ-উল-আলম লেনিন এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।



