মানুষকে অন্ধকারে রেখে সমুদ্র বিজয়ের যে মহোৎসব করছেন

Print This Post Email This Post

সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আপনারা মানুষকে অন্ধকারে রেখে সমুদ্র বিজয়ের যে মহোৎসব করছেন কি বিজয় পেয়েছেন বাংলার মানুষ তা জানতে চায়।

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রোববার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত আলোচনা সভায় দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মোশাররফ বলেন, কন্টিনেন্টাল স্রোতের ভিত্তিতে যে পাওনা আমাদের ছিলো তা অর্জন হয়নি। আমাদের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ব্লক বার্মাকে (মিয়ানমার) দিয়ে আসা হয়েছে। আপনারা এভাবে ৯৬ সালেও গঙ্গা নদীর বিষয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে পানি বিসর্জন দিয়ে এসেছিলেন। এখন যে চুক্তি করেছেন তা ইক্যুইটির ভিত্তিতে করেছেন। কি বিসর্জন দিয়েছেন আর কি অর্জন করেছেন এ বিষয়ে জনগণকে জানান।

আমাদের কোস্ট লাইন ও অন্যদের কোস্ট লাইন এক নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন,  এ সরকারের হাতে সমুদ্রসীমা, সীমান্ত, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, ভোটাধিকার কোনটাই নিরাপদ নয়।

দেশের শিল্পকারখানা বন্ধ করার জন্য সরকার সুপরিকল্পিতভাবে ১২ ঘণ্টা শিল্প কারখানায় বিদ্যুৎ দেওয়া বন্ধ করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে না পারলে আমাদের শিল্প প্রতিষ্ঠান বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। এতে ক্ষতি হবে জনগণের। বেকার হবে লাখ লাখ মানুষ।

কিছু কিছু লোড শেডিং তো থাকবেই মর্মে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কুইক রেন্টাল করেছেন কুইক কমিশন কামানোর জন্য। আপনার ডায়রিতে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জনগণকে দেওয়া হয়েছে লেখা আছে। আপনার দলের এমপিরাই প্রশ্ন তুলেছেন, তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গেলো কোথায়।

এদেশে মানুষ তো নিরাপদ নয় মন্তব্য করে মোশাররফ বলেন, সাগর-রুনি হত্যার ৫২ দিনেও কোন আসামি ধরা হয়নি। সারা দেশে গত তিন বছরে ৯ হাজার মানুষ হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু মহেশখালীর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে হত্যার ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। এক দেশের দুই রকম বিচার কেন?

এ সময় জাসাসসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের আহবান জানিয়ে ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আগামীতে গণতন্ত্রের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে।

জাসাস সভাপতি এমএ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তৃতা করেন বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক গাজী মাযহারুল আনোয়ার, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ছাড়াকার আবু সালেহ প্রমুখ।

পাঠকের মন্তব্য

বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:

কীবোর্ড Bijoy      UniJoy      Phonetic      English
নাম: *
ই-মেইল: *
মন্তব্য: