সাকার যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু

Print This Post Email This Post

একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্মান্তরে বাধ্য করাসহ ২৩টি অপরাধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার শুরু হয়েছে।

এ মামলায় প্রসিকিউশনের উদ্বোধনী বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য ২৯ এপ্রিল দিন রেখেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই তারিখের মধ্যে আসামিপক্ষকেও সাক্ষীর তালিকা ও নথিপত্র জমা দিতে হবে।

বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বুধবার এই আদেশ দেয়।

সাকা চৌধুরী নামে পরিচিতি এই বিএনপি নেতা হলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, যার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠন করা হলো। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর এখন সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

বুধবার আদেশে বিচারক বলেন, প্রসিকিউশন সালাউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে যেসব তথ্য উপাত্ত হাজির করেছে, তাতে এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ৩.২, ৪.১ ও ৪.২ ধারা অনুযায়ী অপরাধ করেছেন।

বিচারপতি নিজামুল হক এরপর জনাকীর্ণ আদালতে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২৩টি অভিযোগ পড়ে শোনান এবং জানতে চান- তিনি অভিযোগগুলো শুনতে এবং বুঝতে পেরেছেন কি-না।

জবাবে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, তিনি শুনতেও পাননি, বুঝতেও পারেননি।

এই পর্যায়ে আদালত বলে, যেহেতু আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়েছে, সেহেতু তিনি এ বিষয়ে অবগত বঠে ধরে নেওয়া হলো।

বিচারপতি নিজামুল হক এরপর সাকা চৌধুরীর কাছে জানতে চান- তিনি দোষী, না নির্দোষ।

জবাবে বিএনপির এই সাংসদ পাল্টা প্রশ্ন করেন- কেন? কোন অপরাধে?

এ নিয়ে কথপোকথনের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, যেহেতু তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি, সেহেতু এ বিষয়ে তিনি কিছু বলবেন না।

ট্রাইব্যুনাল প্রধান এরপর তাদের আদেশ দেওয়া শেষ করেন এবং সালাউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

সালাউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে একাত্তরে রাউজানে কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের মালিক নূতন চন্দ্র সিংকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। স্বাধীনতার পর এ নিয়ে মামলা হয় বলেও নূতন চন্দ্র সিংয়ের ছেলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।

এছাড়া ধর্ষণ, হত্যা, অপহরণ, হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যের বিরুদ্ধে।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন গত বছরের ৪ অক্টোবর সংসদ সদস্য সাকা চৌধুরী বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়। ৫৫ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে এক হাজার ২৭৫ পৃষ্ঠার আনুষঙ্গিক নথিপত্র এবং ১৮টি সিডিও ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়।

২০১০ সালের ২৬ জুলাই সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে তদন্ত সংস্থা।

এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাড়ি পুড়িয়ে যাত্রী হত্যার এক মামলায় এ সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯ ডিসেম্বর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পাঠকের মন্তব্য

বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:

কীবোর্ড Bijoy      UniJoy      Phonetic      English
নাম: *
ই-মেইল: *
মন্তব্য: